
আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও সংঘাতের পর কাবুলের বাসিন্দাদের অনেকেই রাস্তাঘাটে নিরাপত্তা ফিরে আসায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন। তবে একই সঙ্গে তারা কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং শিক্ষার পরিধি বিস্তারের দাবি জানাচ্ছেন। বিশেষ করে ১২ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। বার্তা সংস্থা এপি নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
২০২১ সালের ১৫ আগস্ট দুই দশকের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য ন্যাটো সেনা আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার শুরু করলে তালেবান দ্রুত অভিযান চালিয়ে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। ওই সময় কাবুল বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় দেশ ছাড়তে চাওয়া হাজারো মানুষের ভিড়ে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল।
ক্ষমতা গ্রহণের পর তালেবান প্রথমদিকে নারীদের অধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এবং পুরুষ অভিভাবক ছাড়া চলাচলের ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর আফগানিস্তানে সংঘাতের মাত্রা কমেছে এবং কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে। তবে নারীদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কা মোকাবিলা না করা হলে এই স্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। সংস্থাটির মতে, নারী ও মেয়েদের ওপর নিষেধাজ্ঞাগুলো আফগানিস্তানের পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে পুনরায় সম্পৃক্ত হওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে আছে।
জাতিসংঘের নারী অধিকারবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন জানিয়েছে, আফগান নারী ও মেয়েরা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে বসবাস করছেন। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, জনজীবন, বিচারব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবায় তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ গত এক বছরে আরও সংকুচিত হয়েছে।
তবে তালেবান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মোলভি হায়াতুল্লাহ মাহাজার ফারাহি সরকারের অগ্রগতির দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, গত পাঁচ বছরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিল্পপার্ক স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সরকার কাজ করেছে। মেয়েদের শিক্ষা বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে।
আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের উপস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনের দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছেন ফারাহি। তার ভাষায়, এসব 'শত্রুদের প্রচারণা', যার লক্ষ্য আফগানিস্তানকে একটি অস্থিতিশীল দেশ হিসেবে উপস্থাপন করা।
আন্তর্জাতিকভাবে তালেবান সরকারের বিচ্ছিন্নতার প্রসঙ্গে ফারাহি জানান, প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। বর্তমানে রাশিয়াই একমাত্র দেশ, যারা আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফারাহির দাবি, আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত তালেবান পূরণ করেছে; এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ নেওয়ার পালা।