
ইউক্রেন যুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না পাওয়ায় এবার রাশিয়ার মধ্যযুগীয় ইতিহাসের দিকে নজর দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রুশ সেনাদের মনোবল চাঙা করতে চতুর্দশ শতকের বিখ্যাত সামরিক নেতা গ্র্যান্ড প্রিন্স দিমিত্রি দনস্কয়ের দেহাবশেষ যুদ্ধরত সেনাদের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ডেইলি বিস্ট জানায়, ৭৩ বছর বয়সী পুতিন গতকাল বৃহস্পতিবার মস্কোর ঐতিহাসিক আর্কেঞ্জেল ক্যাথেড্রাল পরিদর্শন করেন। এর দুদিন আগে রুশ অর্থোডক্স চার্চ জানিয়েছিল, সংস্কারকাজের সময় ওই ক্যাথেড্রালে দিমিত্রি দনস্কয়ের দেহাবশেষ আবিষ্কার করা হয়েছে।
ক্রেমলিন প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুতিন একটি প্রার্থনাসভায় হাতে মোমবাতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এবং ক্রুশচিহ্ন এঁকে প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছেন। ওই প্রার্থনায় রুশ সেনাবাহিনীর বিজয়, রুশ জাতি ও প্রেসিডেন্টের জন্য আশীর্বাদ কামনা করা হয়। প্রার্থনা শেষে কাপড়ে ঢাকা দেহাবশেষ রাখা দুটি খোলা সমাধিও পরিদর্শন করেন পুতিন।
চার্চের দাবি, দেহাবশেষ প্রায় সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। শুধু বাম পায়ের গোড়ালির একটি হাড় পাওয়া যায়নি। এগুলো ১৩৮৯ সালে ৩৯ বছর বয়সে মারা যাওয়া দিমিত্রি দনস্কয়ের বলে শনাক্ত করা হয়েছে। ১৩৮০ সালে কুলিকোভোর যুদ্ধে মঙ্গোল বাহিনীকে পরাজিত করার কারণে রুশ ইতিহাসে তিনি কিংবদন্তি সামরিক বীর হিসেবে পরিচিত। ১৯৮৮ সালে রুশ অর্থোডক্স চার্চ দিমিত্রি দনস্কয়কে সাধু হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রুশ অর্থোডক্স চার্চের প্রধান প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল দেহাবশেষের কিছু অংশ ইউক্রেন যুদ্ধে লড়াইরত রুশ সেনাদের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। পুতিন জানিয়েছেন, তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানেন এবং এ বিষয়ে কিরিলকে তার শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। যুদ্ধ চলাকালে কিংবদন্তি এই বীরের দেহাবশেষ আবিষ্কারের ঘটনাকে পুতিন ‘সম্পূর্ণ অনন্য’, ‘বিস্ময়কর’ ও ‘অলৌকিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। রুশ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব কনস্তান্তিন মালোফেয়েভ এটিকে রাশিয়া ও রুশ সেনাবাহিনীর জন্য ‘ঈশ্বরের সরাসরি আশীর্বাদ’ বলেও মন্তব্য করেন।
দিমিত্রি দনস্কয়ের সামরিক উত্তরাধিকার রাশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহার করা হয়ে আসছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও তার নামে একটি ট্যাংক কলাম গঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছিল রুশ অর্থোডক্স চার্চ।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দেশ-বিদেশে চাপের মুখে রয়েছেন পুতিন। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি বিপুল সামরিক সরঞ্জাম ক্ষয় হয়েছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানি সংকটও তীব্র হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যযুগীয় এক বীরের স্মৃতিকে সামনে এনে রুশ সেনাদের মনোবল বাড়ানোর এই উদ্যোগকে পুতিনের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় ইতিহাস ও ধর্মীয় প্রতীকের নতুন ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।