
কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ওপর অমানবিক নির্যাতন এবং দেশকে একনায়কতন্ত্রের দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলে দেশটির সামরিক নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ ছেলে সুলেমান ঈসা খান। ইমরানের আটকাদেশ ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বুধবার (২৬ আগস্ট) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সুলেমান ঈসা খানের সঙ্গে তাঁর ভাই কাসিম খান, ইমরানের আন্তর্জাতিক আইনি পরামর্শক জ্যারেড জেনসার এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা সায়েদ বুখারি উপস্থিত ছিলেন।
সুলেমান বলেন, আমাদের বাবার ওপর নির্যাতন ও অন্যায়ভাবে আটকে রাখার পেছনে সেনাবাহিনীর প্রভাব সুস্পষ্ট। এতে কোনও সন্দেহ নেই যে পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এর সঙ্গে জড়িত।
ইমরান খানের আন্তর্জাতিক আইনি পরামর্শক জ্যারেড জেনসারও পাকিস্তানের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন। সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে একনায়কতান্ত্রিক শাসন পরিচালনার জন্য অভিযুক্ত করে জেনসার বলেন, ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রীর প্রতি সরকারের যে আচরণ, তা কোনও সুস্থ ও কার্যকর গণতান্ত্রিক সরকারের আচরণ হতে পারে না।
২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন ইমরান খান। গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট বলেন, কারাবন্দির চিকিৎসাসেবা ও মানবিক আচরণ পাওয়ার অধিকার সাংবিধানিক। এ কারণে ইমরান খানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের পরও গত ২২ আগস্ট শনিবার ইমরান খানকে শিফা হাসপাতালে না নিয়ে সরকারি হাসপাতাল পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা শেষে তাঁকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইমরানের দল পিটিআই। সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দলটি ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, শিফা হাসপাতালের বাইরে পিটিআই নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড়ের কারণেই ইমরান খানকে সেখানে নেওয়া হয়নি।
পিআইএমএসে ইমরানের শারীরিক পরীক্ষার সময় তাঁর বোন উজমা খান উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ইমরান খানকে দেখে শারীরিকভাবে সুস্থ মনে হলেও তিনি বারবার জানিয়েছেন যে কারাগারে তাঁকে চরম নির্যাতন করা হচ্ছে।
ইমরান খানের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এবং তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পুরো দেশেই এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।