
২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর নেপালে এবারের বন্যা ও ভূমিধসকে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হঠাৎ এই বন্যা ও ভূমিধসের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার তিব্বত এলাকায় ভূমিকম্পের পর লেন্দে খোলা নদীর ওপর থাকা বিশাল কোনো হিমবাহ বা বরফের স্তূপ ধসে পড়ে বিপর্যয়ের সূচনা হতে পারে।
ধসের কারণে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহে বাধা তৈরি হয়ে সাময়িকভাবে সেখানে বিপুল পরিমাণ পানি ও বরফ জমে যায়। পরবর্তী সময়ে সেই প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে জমে থাকা পানি ও বরফ প্রবল বেগে নিচের দিকে নেমে এসে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল গতকাল দেশটির পার্লামেন্টে জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মাত্র তিন মিনিট পর, অর্থাৎ সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘তবে এটা আমাদের যাচাই করে দেখতে হবে।’
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী ভূকম্পীয় তরঙ্গের প্রভাবে ভূকম্পনজনিত শক্তি ভূমিধসের ঘটনায় রূপ নিতে পারে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত এলাকায় অনুভূত ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নেপালের গোসাইকুন্ড হ্রদ থেকে ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে।
নেপালের আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, পাহাড় থেকে বিশাল আকারের বরফের খণ্ড ধসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে পাথর ও অন্যান্য পলিমাটি নিচে নেমে এসে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করে থাকতে পারে।
বন্যার তীব্র স্রোতে নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির তোড়ে ঘরবাড়ির পাশাপাশি বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনাও ভেসে গেছে। দুর্যোগের পর বহু স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশি পর্যটকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে শতাধিক ভারতীয় নাগরিক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার নাগরিক রয়েছেন।
পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের আশঙ্কা, লেন্দে নদীর উজানে মাটি ও বরফের স্তূপ আটকে থাকায় নতুন করে পানির প্রবাহ সৃষ্টি হলে ফের আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
নেপাল থেকে উৎপত্তি হওয়া কয়েকটি নদী ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করায় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় বিহার ও উত্তর প্রদেশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে দুর্গত এলাকায় নেপালের সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কাদা, পাথর ও ধ্বংসস্তূপের কারণে অনেক সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছে।