
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুরে ‘বন্দে মাতরম’ কর্মসূচি থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর পুনর্দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) যাদবপুরে তাঁর উপস্থিতিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কণ্ঠে বন্দে মাতরম গান গাওয়া হয়। ওই সভা থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি, তথাকথিত ‘আজাদি’ স্লোগান এবং অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সরব হন তিনি। শুভেন্দু বলেন, যাদবপুরে ‘হুমকি সংস্কৃতি’ চলছে।
রাষ্ট্রবাদী পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের জোর করে আবাসিক ভবন থেকে মিছিলে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ‘আজাদি’ স্লোগানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কিসের আজাদি চান তারা। এই বাংলার মাটিতে ক্ষুদিরাম বসু হাতে গীতা নিয়ে স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন।
মাতঙ্গিনী হাজরা এক হাতে তেরঙ্গা, অন্য হাতে শঙ্খ নিয়ে ব্রিটিশের গুলি খেয়ে স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ঋষি অরবিন্দ, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিনয়, বাদল, দীনেশ এবং মাস্টারদা সূর্যসেনসহ অসংখ্য বিপ্লবীর আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে।
এরপরই যাদবপুরের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক ভাষায় তিনি বলেন, তারা কীসের স্বাধীনতা চায়। মাদক গ্রহণের স্বাধীনতা চায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তথাকথিত ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর বিরুদ্ধেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।
পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, যাদবপুরের বাঁশদ্রোণীর বিটন অধিকারী এবং বেহালার সমীর গুহকে ধর্ম ও পোশাক দেখে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের মৃত্যুর প্রতিবাদে যাদবপুরে মিছিল হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। একইভাবে অবন্তীপুরায় জঙ্গি হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর পরও শোকপ্রকাশ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, এর পরিবর্তে অপারেশন সিঁদুরের বিরুদ্ধে যাদবপুরে মিছিল হয়েছে। যুদ্ধের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে যাদবপুরের আন্দোলনকারীদের তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘হয় এরা থাকবে, নয় আমরা থাকব। মাঝে আর কিছু হবে না।’
সভা থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েও কঠোর বার্তা দেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভারতীয় বায়ুসেনা কঠোর পদক্ষেপ করেছে।
এরপরই তিনি বলেন, ‘আমরা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরও দখল করব।’
যাদবপুরের সভায় বারবার জাতীয়তাবাদ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তার যোগসূত্র তৈরি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য ঘিরে যাদবপুরের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।