
ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রভাব ইউরোপের অন্য দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সামরিক সক্ষমতা ও বেসামরিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। রুশ ড্রোন অনুপ্রবেশ, সাইবার হামলা, নাশকতা ও অন্যান্য ‘হাইব্রিড’ তৎপরতা নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী সুয়ালকি করিডোরকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। রাশিয়ার মিত্র বেলারুশের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলটি বাল্টিক দেশগুলোকে ন্যাটোর অন্য সদস্যদের সঙ্গে স্থলপথে যুক্ত করে। সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতার কারণে অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
রাশিয়ার সম্ভাব্য হাইব্রিড হামলা মোকাবিলায় ফ্রান্সও প্রস্তুতি জোরদার করছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে সতর্ক করেছেন।
এদিকে ইউরোপের অন্যান্য দেশও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বেসামরিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে। জার্মানি, লিথুয়ানিয়াসহ কয়েকটি দেশ বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও অন্যান্য কৌশলগত স্থাপনা সুরক্ষায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে। লিথুয়ানিয়া সুয়ালকি অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করছে, যাতে ড্রোন হামলা বা নাশকতার মধ্যেও সেটি সচল রাখা যায়।
সিএনএনের প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জরুরি পরিস্থিতির জন্য খাবার ও পানীয় জল মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বেসামরিক অবকাঠামোকে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার হামলা, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ ও ড্রোন অনুপ্রবেশের মতো ‘গ্রে জোন’ বা হাইব্রিড কৌশল ব্যবহারের অভিযোগও উঠছে। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি সামরিক হামলার নিচের স্তরে থেকে ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া ও ঐক্য পরীক্ষা করার একটি উপায় হতে পারে।
একই সময়ে ন্যাটোর সামরিক প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা জোরদার হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার আলোকে ইউরোপীয় দেশগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
তবে ইউক্রেনের বাইরে রাশিয়া সরাসরি ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশে পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলা চালাবে কি না, তা নিয়ে ইউরোপে বিভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে ন্যাটোর কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও হাইব্রিড হুমকি ও সরাসরি সামরিক হামলার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। ফলে বর্তমানে ইউরোপের প্রস্তুতিগুলোকে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে, সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঘোষণা হিসেবে নয়।