-6abf84abee87b.webp)
ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন ও ভোটাধিকার নিয়ে বিতর্কের জেরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরালো হচ্ছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) যুব নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবং ছাত্র ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন দেশটির একাধিক স্থানে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে।
সিজেপি মুম্বাইয়ে সমাবেশ করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করে দেশব্যাপী কর্মসূচি নেওয়া হবে। একই দিনে ছাত্র ও অধিকারকর্মীদের একটি জোট রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের আয়োজন করে।
দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের আটক, নিরাপত্তা জোরদার
শুক্রবার সকালে দিল্লিতে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী জড়ো হলে পুলিশ তাদের কয়েকজনকে বাসে তুলে অন্যত্র নিয়ে যায়। বিক্ষোভ ঘিরে আশপাশের কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। একই সঙ্গে পুরো এলাকায় বাড়ানো হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা।
বিক্ষোভস্থলের চারপাশে শত শত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। লাউডস্পিকারে পাঁচজনের বেশি মানুষকে একসঙ্গে জমায়েত না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ যখন বিক্ষোভকারী ঋষভ সিংকে একটি বাসে তুলে নিচ্ছিল, তখন তিনি বলেন, ‘প্রতিবাদ করা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। ভোট চুরির অভিযোগের বিষয়ে আমরা সরকারের কাছে জবাব চাই।’
মুম্বাইয়েও শুক্রবার বিকেলে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশ করার কথা ছিল। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সেখানে আগে থেকেই বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
নির্বাচন কমিশন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক
সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলমান বিরোধের নতুন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত কমিশনটি বর্তমানে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে এমন পরিবর্তন করা হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি—বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা দিতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন ও সরকার উভয়েই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
গত মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ মাসে ভোটার তালিকা সংশোধন, ভোটার নিবন্ধন এবং কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দুই উপ-কমিশনার অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন। তবে কমিশনের বক্তব্য, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক।
সিজেপির আহ্বায়ক সৌরভ দাস বৃহস্পতিবার বলেন, তারা পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তার ভাষায়, সমাজে পরিবর্তন আনার শেষ হাতিয়ার ভোটাধিকারও যদি মানুষের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে পরিবর্তন আনার আর কোনো সুযোগ থাকে না।
তিনি আরও বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধ, মাঠে বিরোধীরাও
বিতর্কের অন্যতম বিষয় গত বছর শুরু হওয়া দেশব্যাপী ভোটার যাচাই কার্যক্রম। সমালোচকদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার কারণে বিপুলসংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের দাবি, মৃত, একাধিকবার নিবন্ধিত এবং ভোট দেওয়ার অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম সরিয়ে তালিকা পরিশোধনের লক্ষ্যেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
শুক্রবার কমিশন নতুন যোগ্য ভোটারদের নিবন্ধন এবং তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ এটিকে কমিশনের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
এদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোও আগামী ৬ অক্টোবর থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে।
বেকারত্ব ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের আন্দোলন থেকে সিজেপির উত্থান
চলতি বছরের শুরুতে বেকারত্ব এবং বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া ক্ষোভ থেকেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র উত্থান ঘটে।
অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই যুব আন্দোলন প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী গণবিক্ষোভের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পায়। ওই আন্দোলনের পর ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাও ঘটে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘটনাটি মোদি সরকারের জন্য উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক চাপের ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে আলোচিত হয়েছে।
এদিকে দিল্লির বিক্ষোভকারী জুন মনিরয় দাবি করেন, তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ করা উচিত।