
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন সাবেক বিধায়ক হুমায়ুন কবির। বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা এই নেতা ভোটের ফল প্রকাশের আগেই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মঙ্গলবার রেজিনগর আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের দিন পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানোর পর হুমায়ুন কবিরকে আটক করা হয়েছিল। প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশ হেফাজতে থাকার পর বুধবার মুক্তি পান তিনি। পরে নির্বাচন নিয়ে নিজের ক্ষোভ ও অভিযোগের কথা জানান।
‘পুলিশ-প্রশাসনের সহায়তায় নির্বাচন চুরি’
বুধবার (৭ অক্টোবর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবির দাবি করেন, জনগণের ভোটে নয়, কারচুপির মাধ্যমে রেজিনগর আসনে বিজেপি জয় পেতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পুলিশ ও প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, রেজিনগরে বিজেপি জিতবে ঠিকই, তবে সেটি জনগণের রায় হবে না। তার অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসন মিলে ভোটের ফল নিজেদের মতো করে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, বিজেপি মানুষের ভোটের রায় কেড়ে নিয়ে রেজিনগরে জয়ী হবে।
সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগরসহ দুটি আসনে জয় পেয়েছিলেন হুমায়ুন কবির। আইন অনুযায়ী দুটি আসনের একটি আসন তাকে ছেড়ে দিতে হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেজিনগরে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়। এবারের নির্বাচনে নিজের ছেলেকে ওই আসনে প্রার্থী করেছেন তিনি।
হুমায়ুন কবির দাবি করেন, কয়েক দিন আগে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। ওই সময় শুভেন্দু তাকে বলেছিলেন, তার ছেলে প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন। কিন্তু এখন সেই সম্ভাব্য জয় ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আগামী ৯ অক্টোবর রেজিনগর উপনির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
বিধানসভায় না যাওয়ার ঘোষণা
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকা পর্যন্ত তিনি রাজ্য বিধানসভায় যাবেন না। একই সঙ্গে নওদার ভোটারদের কাছেও তিনি ক্ষমা চেয়েছেন।
রেজিনগরের নির্বাচনের বিষয়ে নিজের অবস্থান জানাতে গিয়ে তিনি আবারও দাবি করেন, বিজেপির সম্ভাব্য জয় জনগণের প্রকৃত রায় নয়। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপের কারণেই এমন ফল হতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তার।