.jpeg)
খেলাপি ঋণ আদায়ের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নাসা গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন গুলশানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পত্তি জব্দ করেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)। রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অবস্থিত ওই সম্পত্তিতে বর্তমানে সিটি ব্যাংক পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম চলছে।
অর্থঋণ আদালতের আদেশ পাওয়ার পর সম্পত্তিটি জব্দ করে ইউসিবি। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে একটি নোটিশও টানানো হয়েছে।
ঋণের বিপরীতে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা পাওনা
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নাসা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান নাসা তাইপেই টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ইউসিবি থেকে ঋণ নিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণের অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় সেটি খেলাপি ঋণে পরিণত হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির কাছে ইউসিবির পাওনার পরিমাণ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা।
এই অর্থ আদায়ের জন্য ইউসিবি অর্থঋণ আদালতে মামলা করে। পরে ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেন। একই আদেশে সম্পত্তির নির্ধারিত স্থানে আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রদর্শনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
এক বিঘা জমিতে সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়
জব্দ করা সম্পত্তিটি গুলশান মডেল টাউনের এসই (ডি) ব্লক-৩ এলাকায়। প্রায় এক বিঘা জমির ওপর নির্মিত স্থাপনা ও অবকাঠামোসহ পুরো সম্পত্তিই আদালতের আদেশের আওতায় জব্দ করা হয়েছে।
বর্তমানে এই সম্পত্তিতেই সিটি ব্যাংক পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ইউসিবির পক্ষ থেকে সম্পত্তির প্রবেশপথে টাঙানো নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর অর্থঋণ আদালতের দেওয়া আদেশের ভিত্তিতে সম্পত্তিটি ব্যাংকের অনুকূলে জব্দ করা হয়েছে।
বিক্রি বা হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা, লেনদেনে লাগবে ইউসিবির অনুমতি
আদালতের আদেশের ভিত্তিতে দেওয়া ওই নোটিশে আরও বলা হয়েছে, সম্পত্তিটির ওপর ইউসিবির আইনগত স্বার্থ ও দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে সম্পত্তিটি বিক্রি, ক্রয়, হস্তান্তর, নিবন্ধন কিংবা অন্য কোনো ধরনের লেনদেন করা বেআইনি হবে এবং তা আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়বে।
নোটিশ অনুযায়ী, সম্পত্তিটি নিয়ে কোনো ধরনের লেনদেন বা হস্তান্তর করতে হলে ইউসিবির পূর্ব লিখিত অনুমতি প্রয়োজন হবে। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কেউ কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
নাসা গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপির ঘটনায় রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় থাকা এই সম্পত্তি আদালতের নির্দেশে জব্দ হওয়ার বিষয়টি তাই নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে, বর্তমানে যেখানে সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় পরিচালিত হচ্ছে, সেই সম্পত্তিই জব্দের আওতায় আসায় ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।