
শ্রমিকের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি, সামাজিক সংলাপ জোরদার এবং শোভন কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বুধবার (৬ অক্টোবর) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি) ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব এমপ্লয়ার্সের (আইওই) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রম আইন ও আইএলও কনভেনশন বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ
শ্রমমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শোভন কাজের সুযোগ সৃষ্টি, শ্রমিক কল্যাণ এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রমিক, নিয়োগকর্তা ও সরকারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) রোডম্যাপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে প্রতিনিধি দলের এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করেছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলওর ১৫৫, ১৮৭ ও ১৮৯ নম্বর কনভেনশন অনুমোদন করেছে।
সামাজিক সংলাপের পরিধি বাড়ানো, শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং শ্রম প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নতুন শ্রম বিধিমালা প্রণয়নে গুরুত্ব
সংশোধিত শ্রম আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা প্রণয়নকে সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের প্রতি সরকারের যেসব অঙ্গীকার রয়েছে, সেগুলো শুধু নীতিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে দৃশ্যমান উন্নয়নে রূপ দিতে হবে। শ্রমিকের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোও সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য সরকার, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তার মধ্যে কার্যকর ত্রিপক্ষীয় সংলাপ এবং সামাজিক অংশীদারিত্বকে অপরিহার্য বলেও উল্লেখ করেন শ্রমমন্ত্রী।
আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে দেওয়া পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
ইপিজেডকে শ্রম আইনের আওতায় আনার অনুরোধ
সাক্ষাৎকালে আইটিইউসি ও আইওইর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাংলাদেশের শ্রম আইন সংশোধন এবং ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে নেওয়া পদক্ষেপেও তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তবে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেডকে পৃথক আইনের পরিবর্তে দেশের সার্বিক শ্রম আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
সাক্ষাৎ ও আলোচনায় আইটিইউসির মহাসচিব লুক ট্রায়াঙ্গল, আইওইর ভাইস-চেয়ার কাইজার মোয়ানে, আইএলও গভর্নিং বডির সদস্য জেস ভোগট এবং আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।