
নেপালের মধ্যাঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি, সেতু ও একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্যাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে বিদেশি নাগরিকসহ অন্তত ৮২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) দেশটির গোর্খা জেলার চুমনুব্রি গ্রামে ভূমিধসের কারণে বুধি গণ্ডকি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে বন্যার সৃষ্টি হয়। গ্রামটি রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর থেকে দুজন নারী ও তিনজন পুরুষের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। উদ্ধার হওয়া ৮২ জনের মধ্যে নয়জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।
বন্যার পানিতে প্রায় ১২টি ঘরবাড়ি ও দুটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে। পাশাপাশি একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্যাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকল্পটির নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জামও পানির তোড়ে ভেসে গেছে।
এনডিআরআরএমএর প্রধান নির্বাহী ধর্ম রাজ উপ্রেতি জানান, প্রবল কর্দমাক্ত স্রোতে গোর্খা ও পার্শ্ববর্তী ধাদিং জেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী একটি মহাসড়কের সেতুও ভেসে গেছে।
গোর্খা জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় নদীর ভাটির দিকে অবস্থিত তীরবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গোর্খা ছাড়াও তানাহুন, চিতওয়ান, পূর্ব নাওয়ালপরাসি ও পশ্চিম নাওয়ালপরাসি জেলার নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের বন্যার বিষয়ে সতর্ক করেছে।
নেপালে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুধি গণ্ডকি নদী ত্রিশূলী নদীর একটি উপনদী। গত আগস্টে ত্রিশূলীর আরেকটি উপনদীর অববাহিকায় হিমবাহ ধসের ঘটনায় ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। ওই দুর্যোগে ১ হাজার ৪৫৭ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হন।
এদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়। ধারাবাহিক এসব দুর্যোগে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।