
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে দেশে অঘোষিত জরুরি অবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে। যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ঘটনায় দলের দুই নেতাকে পাঁচ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর পর বুধবার তিনি এ অভিযোগ করেন।
নাগপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দীপকে প্রশ্ন তোলেন, যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণে সিজেপির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা কী অপরাধ করেছেন?
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা ভঙ্গ এবং নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও যন্তর মন্তর এলাকায় প্রবেশের অভিযোগে বুধবার সৌরভ ও আশুতোষকে দিল্লির তিহার কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁদের পাঁচ দিন থাকতে হবে।
এর আগে মঙ্গলবার ভোরে তাঁদের আটক করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা ব্যারিকেড ভেঙে অনুমতি ছাড়াই যন্তর মন্তর এলাকায় প্রবেশ করেন। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগানও দেন।
‘জরুরি অবস্থা জারি করতে চাইলে আনুষ্ঠানিকভাবে করুন’
দলীয় নেতাদের আটকের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দীপকে বলেন, ‘আমি নরেন্দ্র মোদিকে বলতে চাই, আপনি যদি দেশে জরুরি অবস্থা জারি করতে চান, তবে তা আনুষ্ঠানিকভাবেই করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা চাপিয়ে যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণে মানুষকে পাঁচ দিন হেফাজতে রাখা হচ্ছে—এ কেমন কাপুরুষোচিত আচরণ? এমনকি ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধীর আমলে জারি করা জরুরি অবস্থার সময়ও এমনটা ঘটেনি।’
দীপকের অভিযোগ, ভারতে জাতীয় পতাকা ওড়ানোই এখন বড় অপরাধে পরিণত হয়েছে। এ কারণে মানুষকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মোদিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জরুরি অবস্থা জারি করতে চাইলে সাহসের সঙ্গে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা উচিত।
আরএসএসের মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না
ভারতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টারও সমালোচনা করেন সিজেপির এই নেতা। তাঁর বক্তব্য, নরেন্দ্র মোদি কিংবা অন্য কেউ—যেই এই মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন না কেন, তা সফল হবে না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দীপকে জানান, সিজেপি একটি স্বাধীন চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে সিজেপি ইন্ডিয়া জোটের বিরোধী। তাঁর মতে, বিরোধী জোটের আন্দোলন এবং সিজেপির কর্মসূচি—দুটিই একই লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
সূত্র: পিটিআই