
কলকাতার চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পূজা কমিটির কর্মকর্তাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অতিরিক্ত ভিড়, প্রবল বৃষ্টি ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে অব্যবস্থাপনার কারণে শনিবার সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনায় অন্তত ২৫ থেকে ৩৫ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক থানা এলাকার সারদা পার্কসংলগ্ন চোরবাগান দুর্গোৎসব মণ্ডপে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পূজাটির ৯১তম আয়োজন দেখতে সন্ধ্যায় হাজারো মানুষের সমাগম হয়েছিল। এর মধ্যে প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে মণ্ডপে আশ্রয় নেওয়া দর্শনার্থীরা একসঙ্গে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এতে হুড়োহুড়ি শুরু হয় এবং পদপিষ্টের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, মণ্ডপের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ছিল সংকীর্ণ। দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য একটি সরু গলির ওপর নির্ভর করতে হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পাশাপাশি ভিড় সামলাতে স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তাকর্মীর ঘাটতি ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে গাফিলতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ঘটনায় পূজা কমিটির সম্পাদক রাজ কুমার সেওদা ও সহসভাপতি শান্তনু দুবেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন প্যান্ডেল নির্মাণের দায়িত্বে থাকা বিপ্লব মুখোপাধ্যায়, ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কৌশিক সাহা ও পিন্টু দে এবং বেসরকারি নিরাপত্তা দলের প্রধান ইনচার্জ সুমন চক্রবর্তী ও রাজেশ পাল।
দুর্ঘটনার পর কলকাতা পুলিশ, দমকল, দুর্যোগ মোকাবিলা দল ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং এসএসকেএম হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ নারী ও এক শিশুসহ মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে পূজামণ্ডপটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, মণ্ডপে ভিআইপিদের যাতায়াতের জন্য আলাদা গলি সংরক্ষিত রাখায় সাধারণ দর্শনার্থীদের চলাচলে বাধা তৈরি হয়েছিল। প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের সংকীর্ণতা এবং পর্যাপ্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় আরও কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।