
শবে কদর মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত বরকতময় একটি রাত। ইসলামী হাদিসে বর্ণিত আছে, এই রাত বেজোড় তারিখের মধ্যে বেশি সম্ভাবনা থাকে। এ রাতটি আল্লাহর বিশেষ রহমত ও ক্ষমার জন্য প্রসিদ্ধ, তাই মুমিন বান্দার জন্য এটি দোয়া ও প্রার্থনার এক সোনালি সুযোগ। তবে শবে কদরে পৌঁছালে কী ধরনের দোয়া করা উচিত?
এ সম্পর্কে হাদিসের একটি বর্ণনা এভাবে এসেছে -
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহকে (সা.) জিজ্ঞাসা করলাম; হে আল্লাহর রাসুল! (সা.) আপনি বলে দিন, আমি যদি লাইলাতুল কদর পেয়ে যাই, তাতে আমি কী (দোয়া) পড়বো?
রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি বলবে -
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)
শবে কদরে শুধুমাত্র এই দোয়াই নয়, আল্লাহর রহমত, ক্ষমা ও সঠিক পথের হেদায়াত কামনা করে কুরআনুল কারিমে বর্ণিত অন্যান্য দোয়াগুলিও পড়া যেতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি হলো:
প্রথমটি,
رَبَّنَاۤ اٰتِنَا مِنۡ لَّدُنۡكَ رَحۡمَۃً وَّ هَیِّیٴۡ لَنَا مِنۡ اَمۡرِنَا رَشَدًا
উচ্চারণ: ‘রাব্বানা আতিনা মিনলাদুনকা রাহমাতাও ওয়া হাইয়ি’ লানা মিন আমরিনা রাশাদা।’
অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দিন এবং আমাদের জন্য কাজকর্ম সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করুন।’ (সুরা কাহাফ: আয়াত ১০)
দ্বিতীয়টি,
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَاۤ اِنۡ نَّسِیۡنَاۤ اَوۡ اَخۡطَاۡنَا ۚ رَبَّنَا وَ لَا تَحۡمِلۡ عَلَیۡنَاۤ اِصۡرًا كَمَا حَمَلۡتَهٗ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِنَا ۚ رَبَّنَا وَ لَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَۃَ لَنَا بِهٖ ۚ وَ اعۡفُ عَنَّا ٝ وَ اغۡفِرۡ لَنَا ٝ وَ ارۡحَمۡنَا ٝ اَنۡتَ مَوۡلٰىنَا فَانۡصُرۡنَا عَلَی الۡقَوۡمِ الۡكٰفِرِیۡنَ
উচ্চারণ: ‘রব্বানা লা তুআখিযনা ইন নাসিনা আও আখতা’না রব্বানা ওয়া লা তাহমিল আলাইনা ইসরাং কামা হামালতাহু আলাল্লাজিনা মিন ক্বাবলিনা রব্বানা ওয়া লা তুহাম্মিলনা মা লা ত্বাক্বাতা লানা বিহি ওয়া’আফু আন্না, ওয়াগফির লানা, ওয়ারহামনা আনতা মাওলানা ফানসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরিন।’