
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশি নাগরিকদের মালিকানাধীন প্রায় ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দ করেছে যুক্তরাজ্য।
মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার জানান, ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই বিশাল পরিমাণ সম্পদ ও অর্থ জব্দ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখার অংশ হিসেবেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্পদ জব্দ করার প্রক্রিয়ার বিষয়ে সারাহ কুক বলেন, 'আমরা এ বিষয়ে আরও কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার বিষয়ে আমরা কথা বলতে পারি না। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এ বিষয়টি আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।'
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সুশাসন রক্ষায় যুক্তরাজ্যের সহায়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, 'আমি মনে করি, এখন পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপগুলোই প্রমাণ করে যে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আমরা কতটা আন্তরিক।'
এদিকে, অবৈধ অর্থ পাচার ও আর্থিক অপরাধ দমনে বৈশ্বিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ২৩ ও ২৪ জুন লন্ডনের ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে ‘ইলিসিট ফাইন্যান্স সামিট’ বা অবৈধ অর্থায়ন বিষয়ক সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। এই সম্মেলনে বাংলাদেশকেও পাশে চায় ব্রিটিশ সরকার। এ প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, 'আমরা আশা করি এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে আমরা বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীকে (আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী) স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় আছি।'
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে অবৈধ অর্থের লেনদেন বন্ধ করা, অর্থ পাচারকারী চক্রকে শনাক্ত করা এবং আবাসন খাত বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে হওয়া আধুনিক অর্থ পাচার প্রতিরোধের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক একটি শক্তিশালী জোট গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাজ্যের।
ডিক্যাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার স্পষ্ট করেন যে, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও আইনি নথিপত্র আদান-প্রদানে দুই দেশ গত দেড়-দুই বছর ধরে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। ব্রিটিশ সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপকে বাংলাদেশের পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।