বর্ষার আর্দ্রতা কমতে শুরু করে শরৎ-হেমন্তের দিকে আবহাওয়ায় আসে পরিবর্তন। দিনের বেলা গরম ও আর্দ্রতা থাকলেও ভোর ও রাতে বাতাস তুলনামূলক শুষ্ক হতে শুরু করে। এই ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে ত্বক ও চুলেও। কারও ত্বক হয়ে ওঠে অতিরিক্ত শুষ্ক, কারও আবার ব্রণ, র্যাশ কিংবা চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই বর্ষার মতো একই রুটিনে না থেকে শরৎ-হেমন্তে ত্বক ও চুলের যত্নে কিছুটা পরিবর্তন আনা জরুরি।
ত্বকের ধরন বুঝে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার
বর্ষায় অতিরিক্ত ঘাম ও আর্দ্রতার কারণে অনেকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার কমিয়ে দেন। কিন্তু আবহাওয়া শুষ্ক হতে শুরু করলে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে হালকা, নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য তুলনামূলক ঘন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। মুখ ধোয়ার পর ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই ময়েশ্চারাইজার লাগালে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
সানস্ক্রিন বাদ দেওয়া যাবে না
আকাশ মেঘলা কিংবা তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকলেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বকের সুরক্ষা প্রয়োজন। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী আবারও ব্যবহার করতে হবে।
মুখ পরিষ্কারে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি নয়
ঋতু পরিবর্তনের সময় ত্বক সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। দিনে বারবার মুখ ধোয়া বা শক্তিশালী সাবান ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। তাই ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করা ভালো।
একই সঙ্গে খুব ঘন ঘন স্ক্রাব বা শক্ত হাতে ত্বক ঘষার অভ্যাসও এড়িয়ে চলা উচিত। এতে ত্বকে জ্বালা বা শুষ্কতা বাড়তে পারে।
ঠোঁট ও হাতের যত্ন
শরৎ-হেমন্তে বাতাস শুষ্ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠোঁট ফাটার প্রবণতা বাড়তে পারে। নিয়মিত লিপ বাম ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত পানি পান এ ক্ষেত্রে সহায়ক। হাত ধোয়ার পর হাতের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক মনে হলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।
চুলে বর্ষার রুটিনও বদলান
বর্ষায় ঘাম, আর্দ্রতা ও ভেজা পরিবেশের কারণে মাথার ত্বকে খুশকি বা চুলকানির সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার ঋতু পরিবর্তনের সময় অনেকের চুল শুষ্ক ও রুক্ষ মনে হয়। তাই চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করা জরুরি।
শ্যাম্পু করার সময় শুধু চুলের গোড়ায় নয়, মাথার ত্বক পরিষ্কার করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। তবে অতিরিক্ত শ্যাম্পু করাও ঠিক নয়। চুলের প্রয়োজন অনুযায়ী রুটিন ঠিক করাই ভালো।
ভেজা চুল নিয়ে ঘুম নয়
বর্ষার অভ্যাস শরৎ-হেমন্তেও টেনে না নিয়ে গোসলের পর চুল ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া উচিত। ভেজা চুল দীর্ঘ সময় বেঁধে রাখা বা ভেজা অবস্থায় ঘুমানোর অভ্যাস মাথার ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে এবং চুল ভাঙার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
চুলে অতিরিক্ত তাপ কমান
চুল শুকাতে নিয়মিত অতিরিক্ত গরম হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার বা কার্লিং আয়রন ব্যবহার করলে চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। প্রয়োজন হলে কম তাপমাত্রা ব্যবহার করা এবং চুলকে অতিরিক্ত তাপ থেকে বিরতি দেওয়া ভালো।
খাবার ও পানির দিকেও নজর
ত্বক ও চুলের যত্ন শুধু বাইরে থেকে করা যায় না। পর্যাপ্ত পানি পান, শাকসবজি, ফল, ডাল, ডিম, মাছসহ বৈচিত্র্যময় ও পুষ্টিকর খাবার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভরতা কমানোও ভালো অভ্যাস।
কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন
ত্বকে সামান্য শুষ্কতা বা চুলের স্বাভাবিক পরিবর্তন সাধারণত ঘরোয়া যত্নে সামলানো সম্ভব হলেও দীর্ঘদিন ধরে তীব্র চুলকানি, লালচে হয়ে যাওয়া, ঘা, অস্বাভাবিক চুল পড়া, মাথার ত্বকে সংক্রমণের মতো সমস্যা দেখা দিলে নিজে থেকে নানা ধরনের প্রসাধনী বা ওষুধ ব্যবহার না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে ত্বক ও চুলের প্রয়োজনও বদলায়। তাই অন্য কারও রুটিন অনুসরণ না করে নিজের ত্বক ও চুলের ধরন বুঝে সহজ, নিয়মিত ও প্রয়োজনভিত্তিক যত্ন নেওয়াই হতে পারে শরৎ-হেমন্তে সুস্থ ও স্বাভাবিক ত্বক-চুল ধরে রাখার সবচেয়ে ভালো উপায়।