
বৈরী আবহাওয়া ও মেঘনা নদীর উত্তাল পরিস্থিতির কারণে নোয়াখালীর হাতিয়ার সঙ্গে সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। রোববার (৫ জুলাই) সকাল থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া।
নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় সকাল থেকেই নলচিরা ও চেয়ারম্যানঘাটে বহু যাত্রীকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তবে নদীর প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে কোনো সি-ট্রাক, স্পিডবোট, ফেরি বা যাত্রীবাহী ট্রলার ছেড়ে যায়নি।
নলচিরা ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রী আবদুল কাদের বলেন, জরুরি প্রয়োজনে নোয়াখালী শহরে যাওয়ার কথা ছিল। সকাল থেকে ঘাটে অপেক্ষা করলেও কোনো নৌযান ছাড়েনি। এতে ভোগান্তিতে পড়লেও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছেন তিনি।
চেয়ারম্যানঘাটে আটকে পড়া আরেক যাত্রী রুবেল হোসেন জানান, পারিবারিক কাজে হাতিয়ায় এসেছিলেন। রোববার ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও নৌ চলাচল বন্ধ থাকায় তিনি আটকা পড়েছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দ্রুত নৌযান চালুর দাবি জানান তিনি।
ফেরি ‘মহানন্দা’র মাস্টার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি থাকায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
হাতিয়া উপকূলীয় নদীবন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ভোর থেকেই মেঘনা নদী উত্তাল রয়েছে এবং জোয়ারের পানির উচ্চতাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়েছে। এ কারণে হাতিয়া চেয়ারম্যানঘাট-নলচিরা নৌপথে সব ধরনের সরকারি নৌযান চলাচল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সব ধরনের নৌযান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়া গেলে পুনরায় নৌযান চলাচল শুরু হবে।