২১ বছরে এমপি প্রার্থী, সংসদের মেয়াদ চার বছর করার সুপারিশ


Jan 2025/Parliament House.jpg

সংবিধান সংস্কারে অন্তবর্তী সরকারের গঠিত কমিশন যেসব সুপারিশ করেছে, তাতে চার বছর মেয়াদী দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ ও ২১ বছর বয়সে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন দেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ। পরে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়।

কেমন সংসদ হবে সে বিষয়ে কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, ‘কমিশন একটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রস্তাব করছে। একটি নিম্নকক্ষ জাতীয় সংসদ ও একটি উচ্চকক্ষ (সিনেট)। উভয় কক্ষের মেয়াদ হবে ৪ বছর।’

নিম্নকক্ষে সরাসরি ভোটে ৪০০ জন প্রতিনিধি নির্বাচনের সুপারিশ করেছে আলী রীয়াজ কমিশন। যেখানে ৩০০ জন সদস্য সমান সংখ্যক সংসদীয় এলাকা থেকে নির্বাচিত হবেন। আর ১০০টি নির্বাচনি এলাকা থেকে ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসবেন ১০০ নারী সংসদ সদস্য।

কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, ‘নিম্নকক্ষ গঠিত হবে সংখ্যগরিষ্ঠ ভোটে সরাসরি নির্বাচিত সদস্যদের সমন্বয়ে। ৪০০ আসন নিয়ে নিম্নকক্ষ গঠিত হবে।’

‘৩০০ জন সদস্য একক আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। আরো ১০০ জন নারী সদস্য সারা দেশের সব জেলা থেকে এই মর্মে নির্ধারিত ১০০ নির্বাচনি এলাকা থেকে কেবল নারী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন।’

নিম্নকক্ষের মোট আসনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ আসনে তরুণ-তরুণীদের মধ্য থেকে প্রার্থী মনোনীত করার সুপারিশ রেখেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন।

সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বর্তমান বয়স ন্যূনতম ২৫ বছর থেকে কমানোর সুপারিশে করে কমিশন বলছে, ‘সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ন্যূনতম বয়স কমিয়ে ২১ বছর করা হবে।’

কমিশন সুপারিশ করেছে, স্পিকারের পাশাপাশি দুইজন ডেপুটি স্পিকার থাকবেন, যাদের মধ্যে একজন বিরোধী দল থেকে মনোনীত হবেন।

সুপারিশের বলা হয়, ‘একজন সাংসদ (এমপি) একই সাথে নিম্নলিখিত যে কোন একটির বেশি পদে অধিষ্ঠিত হবেন না; প্রধানমন্ত্রী, সংসদনেতা ও রাজনৈতিক দলের প্রধান।’

অর্থবিল ব্যতীত অন্য সবক্ষেত্রে নিম্নকক্ষের সদস্যরা যাতে তাদের মনোনয়নকারী দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারে, সেই ‘পূর্ণ ক্ষমতা’ দেওয়ার সুপারিশও করেছে সংস্কার কমিশন।

কমিশনের আরেকটি প্রস্তাব হচ্ছে, আইনসভার স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতি সবসময় বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনীত হবেন।

উচ্চকক্ষ সিনেটের গঠন যেভাবে:

উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য হবে ১০৫ জন। এর মধ্যে ১০০ জন সদস্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের সংখ্যানুপাতে নির্ধারিত হবেন।

এর ব্যাখ্যায় কমিশন বলেছে, ‘রাজনৈতিক দলগুলো সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের মনোনয়নের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ (একশো) জন প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে।’

প্রার্থীদের মধ্যে কমপক্ষে পাঁচজন ‘আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর সম্প্রদায়’ থেকে রাখার সুপারিশ করেছে কমিশন।

সুপারিশে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপতি কোন সংসদের সদস্য নন বা কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য নন, এমন নাগরিকদের মধ্য থেকে অবশিষ্ট ৫টি আসন পূরণ করবেন।

কমিশন বলছে, ‘কোন রাজনৈতিক দলকে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্বের যোগ্য হতে হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের অন্তত এক শতাংশ নিশ্চিত করতে হবে।’

উচ্চকক্ষের স্পিকার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচনের সুপারিশ করেছে কমিশন। আর উচ্চকক্ষের একজন ডেপুটি স্পিকার থাকবেন, যিনি সরকার দলীয় সদস্য ছাড়া উচ্চকক্ষের অন্য সব সদস্যের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন।

ঢাকাওয়াচ২৪ এর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন ।
ঢাকাওয়াচ২৪ডটকমে লিখতে পারেন আপনিও ফিচার, তথ্যপ্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, ভ্রমণ ও কৃষি বিষয়ে। আপনার তোলা ছবিও পাঠাতে পারেন dhakawatch24@gmail.com ঠিকানায়।
×