
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের আপিল শুনানিকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন ভবনে শনিবার হঠাৎ উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত একটি আপিলের শুনানিকালে আইনজীবীদের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হলে পুরো অডিটরিয়ামজুড়ে হট্টগোল ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বৈধ প্রার্থী আফরোজা খানমের মনোনয়নপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা আপিলের শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
দুপুরে শুনানি চলাকালে দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়ে উপস্থিত সিনিয়র আইনজীবীদের ব্যাখ্যা শেষের দিকে কমিশন প্রায় আধা ঘণ্টার জন্য বিরতি দেয়। বিরতির সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যরা আসন ত্যাগ করলে মঞ্চের সামনে আপিলের পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা আইনজীবীরা জড়ো হন। এ সময় তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়।
এই উত্তেজনার মধ্যেই সেখানে উপস্থিত ফেনী-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বিরোধী পক্ষের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের শুনানিও চলছিল।
এরপর অন্য একটি আপিলের শুনানির জন্য অডিটরিয়ামে থাকা কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) আব্দুল আউয়াল মিন্টুর বক্তব্যে আপত্তি তোলেন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনজীবীরা আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে সরিয়ে নিলে তার ছেলে তাবিথ আউয়াল হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিরতির পর শুনানি পুনরায় শুরু হলে হাসনাত আব্দুল্লাহ কমিশনের কাছে অভিযোগ জানান। তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং বলপ্রয়োগেরও চেষ্টা করেন। একই সময়ে অপর এক আইনজীবী অভিযোগ করেন, কিশোরগঞ্জের একটি আসনের বিএনপি প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর সমর্থকরা শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) শুনানি শেষে নির্বাচন ভবনের সামনে তার মক্কেলকে মারধর করেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, কমিশন ঘটনাটি অবগত হয়েছে এবং এটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত হিসেবে দেখছে। তিনি এমন ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্বাচনি তদন্ত কমিটিতে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে না বলে আশা প্রকাশ করেন।