
সারা দেশে যখন একযোগে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ, তখন ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে শেরপুর-৩ আসন। প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর মৃত্যুতে এ আসনে আজ ভোট হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। একই দিনে সংবিধান সংস্কার ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রশ্নে ঐতিহাসিক গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তবে শেরপুর-৩, যা শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত, সেখানে নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনের ভোটগ্রহণ আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। পরে এ আসনের জন্য নতুন করে তফসিল ঘোষণা করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি জানান, কোনো সংসদীয় আসনে নির্বাচনের আগে বৈধ কোনো প্রার্থীর মৃত্যু হলে সেই আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করার বিধান রয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী, কোনো বৈধ প্রার্থী মারা গেলে সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচন কার্যক্রম বাতিল করেন। এরপর ওই আসনে ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন নতুন তফসিল ঘোষণা করে। নতুন তফসিল অনুযায়ী আগে যেসব প্রার্থী বৈধ হিসেবে ঘোষিত হয়েছিলেন, তাদের পুনরায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া বা জামানত প্রদান করার প্রয়োজন হবে না। তবে নতুন কোনো যোগ্য ব্যক্তি চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন।
শেরপুর-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ছিলেন মো. মাহমুদুল হক রুবেল। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল মার্কসবাদীর মো. মিজানুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম নির্বাচনী মাঠে ছিলেন।
এ আসনে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবশালী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রত্যাশা ছিল। তবে গত ৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ৩টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল। উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। তিনি জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫১ বছর।