
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন তিনি। ভোট প্রদান শেষে কেন্দ্রের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
এ সময় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন পথে যাবে।’’
তিনি বলেন, “আল্লাহর অশেষ রহমতে আজকের এই জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি শুভদিন, একটি শুভক্ষণ। এই নির্বাচন এই জাতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন দিকে যাবে।”
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘‘দেশে গণতন্ত্রের যে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে, তা যেন মসৃণভাবে এগিয়ে যায়—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা। তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশের গণতন্ত্রের যে যাত্রা নতুন করে শুরু হলো, আমরা আশা করি এই পথ আগামী দিনে মানুষের জীবন, রাজনীতি ও অর্থনীতিকে একটি সুন্দর ও অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাবে।”
তিনি দাবি করেন, বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এই নির্বাচন এসেছে। মির্জা ফখরুল বলেন, “অনেক বাধা-বিপত্তি, অনেক রক্তপাত ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আজকের এই দিনের শুভ সূচনা হয়েছে।”
নির্বাচনের পেছনে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বক্তব্যে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ত্যাগ স্বীকার করে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।”
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন চলাকালে বহু মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁর দাবি, “লক্ষ লক্ষ মানুষ পুলিশের হাতে নির্যাতিত হয়েছে, গুম হয়েছে, হত্যা হয়েছে। ২৪ জুলাই প্রায় ২ হাজার ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। এত আত্মত্যাগের পরেই আজকের এই নির্বাচন।”
শেষে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা আশা করছি এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে, সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে এবং এটি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।”