
গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সঙ্গে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীও শপথ গ্রহণ করেন।
এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স শিরোনাম করেছে— “নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান”। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরে এসে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে বিএনপি।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পড়ান। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের ১৮ মাস পর নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের বিষয়টি তারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে।
যুক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা উল্লেখ করেছে, ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহের পর প্রথমবারের মতো নির্বাচনে জয়লাভের কয়েকদিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তারা আরও জানায়, শপথ অনুষ্ঠানে পাকিস্তান ও ভারতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি লিখেছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করান বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি শিরোনাম করেছে— “বিএনপির বিশাল জয়ের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান”। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হলো।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর কাভারেজে স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক অঙ্গনে বিশেষ আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।