
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাংলাদেশের মানুষকে বাংলায় কথা বলে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ‘মার্কিন দূতাবাস, ঢাকা’-এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।
বার্তায় ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, “সবাইকে জানাই মহান একুশের শুভেচ্ছা। গভীর শ্রদ্ধা জানাই ভাষা শহীদদের। ভাষা আমাদের সংস্কৃতির পরিচয়।” তিনি আরও বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি মানুষকে নিজের ভাষায় কথা বলতে এবং নিজস্ব ইতিহাস স্মরণ করতে শেখায়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই বিশেষ দিনে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে রাজধানীসহ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসের প্রথম প্রহরে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিরোধীদলীয় নেতা, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, সংসদ সদস্য এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে সম্মান জানান। এ সময় বিদেশি কূটনীতিকসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ খালি পায়ে, হাতে ফুল নিয়ে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গাইতে গাইতে শহীদ মিনারে আসতে থাকেন।
১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় যারা আত্মোৎসর্গ করেছিলেন, তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন হাজারো মানুষ। ঢাকার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলা এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে।
বাংলায় শুভেচ্ছা জানিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সংহতি প্রকাশ আন্তর্জাতিক পরিসরে ২১ ফেব্রুয়ারির গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করেছে। ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস ধারণের ওপর তার গুরুত্বারোপ একুশের চেতনারই প্রতিধ্বনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ সারা বিশ্বে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রতীক হিসেবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৫২ সালের আত্মত্যাগ বিশ্বদরবারে অধিকার আদায়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।