
মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে। রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর কথা রয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল। তিনি জানান, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করেই মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে। এ সময় তার সঙ্গে থাকবেন সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস এবং তাদের জ্যেষ্ঠ সন্তান মির্জা ইয়াসির আব্বাস।
এর আগে শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। শনিবার সকালে তার মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান করা হয় এবং রিপোর্ট ভালো এসেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “সকালে মির্জা আব্বাসের সিটি স্ক্যান করা হয়েছে এবং রিপোর্ট ভালো এসেছে। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক তাকে পর্যবেক্ষণে রাখছেন।”
গত বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। পরে তাকে দ্রুত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেশে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়।
এরপর শুক্রবার বিকেলে এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রথম দফায় তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে নিউরো আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মির্জা আব্বাসের চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন অধ্যাপক আলী উজ্জামান জোয়ার্দার, অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক রাজিউল হক, অধ্যাপক সাঈদ আহমেদ, অধ্যাপক কাদের শেখ এবং অধ্যাপক শফিকুল ইসলামসহ এভারকেয়ার হাসপাতালের একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
এদিকে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়মিত নিচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার দুপুরে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
এ ছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ইতোমধ্যে হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন।