
অতীতের ‘বালিশ, পর্দা বা ছাগল কাণ্ড’ যেন আর না ঘটে—এমন সতর্ক বার্তা দিয়ে সংসদ সদস্যদের আবাসনের জন্য আসবাবপত্র ক্রয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আসবাবপত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি মূল্য যেন যৌক্তিক থাকে, তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে অতীতের মতো অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
এদিন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নাখালপাড়ায় অবস্থিত সংসদ সদস্যদের আবাসনের সংস্কার ও মেরামত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে এসব বাসা বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শেরে-ই-বাংলা নগরের এমপি হোস্টেলের ১৫৬টি অফিস কক্ষ সংস্কারের অগ্রগতিও আলোচনায় উঠে আসে।
সংসদ ভবনের ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে দুটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে সংসদ অধিবেশন কক্ষের সাউন্ড সিস্টেমের ত্রুটি নিরূপণে রকিবুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্যান্টিনের খাবার ও পানির মান এবং এমপি ভবনের আসবাবপত্রের গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য নায়ার ইউসুফ আহমেদকে আহ্বায়ক করে আরেকটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া সংসদ সদস্যদের জন্য সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদের মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও মেডিকেল অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নাখালপাড়া এলাকার এমপি হোস্টেলগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী এবং সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।