
নারীপ্রধান পরিবারকে কেন্দ্র করে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছে জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনওপিএস। সংস্থাটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইউএনওপিএসের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির বাংলাদেশে কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধারণ। বৈঠকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে একটি ইউনিভার্সাল ব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় প্রতিটি পরিবারের নারীপ্রধানকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি জানান, ১০ মার্চ ঢাকায় কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭,৫৬৭টি পরিবারকে কার্ড দেওয়া হয়েছে, যাদের প্রত্যেকে মাসে ২,৫০০ টাকা করে সহায়তা পাচ্ছেন।
মন্ত্রী আরও জানান, আগামী চার বছরের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কার্ড শুধু আর্থিক সহায়তার মাধ্যম নয়, বরং নারীপ্রধানদের নাগরিক হিসেবে সম্মানজনক স্বীকৃতি প্রদান করবে। এছাড়া দরিদ্র ছেলে-মেয়েদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ‘কেয়ারগিভার’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
ইউএনওপিএসের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধারণ বলেন, নারীপ্রধান পরিবারের নামে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দুই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।