
দেশের পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদসহ বিভিন্ন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এসব তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রী। কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বায়ু দূষণ রোধে নভেম্বর ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ১১টি অবৈধ ইটভাটা সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫টি মামলা দায়ের এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, শুধু ইটভাটা উচ্ছেদেই সীমাবদ্ধ নয় সরকারের পদক্ষেপ; শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণেও কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩২টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। পানি দূষণ রোধে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপন বাধ্যতামূলক করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন পরিবেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ)’ এবং ‘জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি)’ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর অংশ হিসেবে ১৮০ দিনের স্বল্পমেয়াদি কর্মসূচির আওতায় উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনায়ন এবং সারাদেশে ১ কোটি ৫০ লাখ গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (বিসিডিপি)’ গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ১৫১ দশমিক ৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯৮৫টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, যার ৮২৮টি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং ১৫৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।
পরিপূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার নিয়মিত নতুন কৌশল গ্রহণ করছে এবং এসব কার্যক্রম জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।