
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী’র সাথে আজ বৃহস্পতিবার(১৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত H.E. Antonio Alessandro সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে তাঁরা দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ১৯৯১ সালের ১৩ অক্টোবর স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক চুক্তির কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, এই চুক্তিটি দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক অংশীদারিত্বের মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
তিনি উল্লেখ করেন যে, সংস্কৃতি হলো বিভিন্ন দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সেতুবন্ধন রচনার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম, তাই শিল্পী, সংগীতশিল্পী ও কারুশিল্পীদের বিনিময়ের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা প্রয়োজন।
বৈঠকে পুরাকীর্তি সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার এবং আধুনিক জাদুঘর ব্যবস্থাপনায় ইতালির কারিগরি সহযোগিতার প্রস্তাব এবং ভাষা প্রশিক্ষণ ও ঢাকায় আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক ইভেন্ট আয়োজনে ইতালির আগ্রহকে মন্ত্রী সাধুবাদ জানান।
তিনি বলেন, দুই দেশের এই বিনিময় কর্মসূচি সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে। মন্ত্রী এ সময় ভেনিস বিয়েনাল (২০২২, ২০২৪), নেপলস সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্মেলন (২০২৫) এবং এক্সপো মিলানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে ইতালির সাথে সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাসের প্রশংসা করেন।
মন্ত্রী দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, ২০২৩ সালের ২৫ জুলাই রোমে স্বাক্ষরিত সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি (সিইপি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইতালির রাষ্ট্রদূত H.E. Antonio Alessandro বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইতালিতে বসবাসরত বৃহৎ বাংলাদেশি কমিউনিটি দুই দেশের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যাই হোক না কেন, সংস্কৃতি সবসময় অভিন্ন থাকে। ইতালি বাংলাদেশের সাথে এই সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে চায়। বিশেষ করে ঢাকার মতো জনবহুল রাজধানীতে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দুই দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে যৌথ প্রদর্শনী আয়োজনের বিষয়ে তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও ইউনেস্কো এবং ঐতিহ্যগত সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও দৃঢ় করার বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণার প্রসারে দুই দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি এবং ফেলোশিপের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
সাক্ষাৎকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ইতালি দূতাবাসের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।