
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেল আগামী অর্থবছর থেকেই কার্যকর হতে পারে এমন ইঙ্গিত মিললেও কত শতাংশ বেতন বাড়বে তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন অর্থবছরে ধাপে ধাপে এই কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সরকারি পর্যায়ের আলোচনায় বলা হচ্ছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন আগামী বাজেটেই শুরু হতে পারে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, এটি কীভাবে কার্যকর হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথা ভাবা হচ্ছে। প্রথম দুই বছরে মূল বেতনের একটি অংশ বৃদ্ধি করে দেওয়া হতে পারে এবং তৃতীয় বছরে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পুরোপুরি সমন্বয় করা হতে পারে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হলে প্রথম ধাপে একজন চাকরিজীবীর মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। যেমন কারও মূল বেতন ৫০ হাজার টাকা হলে প্রথম বছর তা প্রায় ৭৫ হাজার টাকা এবং পরের বছর প্রায় এক লাখ টাকায় পৌঁছাতে পারে। তবে এই হিসাব এখনো চূড়ান্ত নয়।
এ ছাড়া বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা, শিক্ষা ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধাও নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পেনশন সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় আছে।
অন্যদিকে বৈশাখী ভাতা এবং যাতায়াত ভাতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের সুপারিশ এসেছে বলে জানা গেছে। তবে এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সময়সূচি ও হার নির্ধারণ সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। কমিশনের সুপারিশ থাকলেও শেষ সিদ্ধান্ত সরকারকেই নিতে হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে প্রত্যাশা থাকলেও কতটা বৃদ্ধি কার্যকর হবে তা এখনো পরিষ্কার হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন অর্থবছর থেকেই এ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।