
ক্যানসার, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ ও লিভার ডিজিজসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত দুস্থ ব্যক্তিদের জন্য সরকারি অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এই খাতে বার্ষিক বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৬০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
সরকারের নীতিগত লক্ষ্য উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, "বিএনপির নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো এখন শুধু দলের নয়, এটি জাতির ম্যানিফেস্টো। জনগণ দেশের সেবা করার যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা এখন জাতীয় কর্তব্য বা ‘ম্যাগনা কার্টা’র মতো। প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক মন্ত্রণালয়কে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন।"
তিনি জানান, সরকারের অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর পাইলটিংয়ের দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন হয়েছে এবং চলতি জুন মাসের মধ্যেই তৃতীয় ধাপ শেষ হবে। বর্তমানে ৮০ হাজার পরিবারের মধ্যে চলমান এই কর্মসূচিটি ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, আগে দুস্থ ভাতা, বিধবা ভাতা, এতিমদের জন্য ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট এবং প্রতিবন্ধী সহায়তার হার সীমিত থাকলেও, বর্তমান সরকার প্রায় সব ক্ষেত্রেই ভাতার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়েছে। দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সামাজিক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, "প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।"
এতিম ও প্রতিবন্ধীদের কেবল সাহায্য না দিয়ে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, "আমরা অর্থবহ সেবা নিশ্চিত করতে চাই। কেউ সেলাই শিখলে তাকে সেলাই মেশিন এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিলে তাকে কম্পিউটার দেওয়া হবে, যাতে তারা আত্মকর্মসংস্থান করতে পারে। এছাড়া কেয়ারগিভিং প্রশিক্ষণের সঙ্গে ভাষা শিক্ষা যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে দক্ষ কর্মীরা দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।"
প্রতিবন্ধীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধিতা কোনো ব্যক্তির সামগ্রিক সক্ষমতাকে নির্ধারণ করে না। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে তারাও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
বিদ্যমান সমাজকল্যাণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে একটি তিন দিনব্যাপী ‘ব্রেইনস্টর্মিং’ (মতবিনিময়) কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। সচিব, প্রতিমন্ত্রী, মহাপরিচালক ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা আগামী ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী।