
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলার যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দাবি করেছেন, প্রধান আসামি সোহেল রানা ঘটনার সময় মাদকাসক্ত ছিলেন না এবং তিনি সুস্থ অবস্থায়ই এই নৃশংস অপরাধ ঘটান।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সোহেল রানার ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিনি ঘটনার দিন মাদকাসক্ত ছিলেন না। তার মতে, এটি পূর্বপরিকল্পিত ও সচেতনভাবে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না ঘটনার সময় চাইলেই অপরাধটি প্রতিরোধ করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি এবং পরবর্তীতে অপরাধে সহায়তা করেন।
শুনানির সময় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় স্বপ্না অস্বাভাবিক আচরণ করেন এবং কাঁদতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং আদালত তাকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যের সময় আইনজীবী আসামিদের আদালত কক্ষ থেকে সরিয়ে রাখার আবেদন জানান। তবে বিচারক বলেন, আসামিদের বক্তব্য শোনার সুযোগ রয়েছে এবং তারা চাইলে আইনগত প্রক্রিয়ায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পারবেন।
এর আগে সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে যুক্তিতর্ক শুরু হয় এবং বেলা সোয়া ১টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন চলে। মামলাটিতে আজ রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯ মে পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার নিখোঁজ হন এবং পরে একই বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার সম্পৃক্ততা উঠে আসে এবং তারা গ্রেপ্তার হন। সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।