
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ইতিবাচক কাজের স্বীকৃতি ও পেশাদারিত্বকে উৎসাহিত করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ভালো কাজের জন্য যেমন পুরস্কৃত করা হবে, ঠিক তেমনই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তিরস্কারের নীতিতে হাঁটছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সোমবার (৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে কর্তব্যনিষ্ঠ ও সাহসী ভূমিকার জন্য ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশের ভাবমূর্তি, টিআইবির প্রতিবেদন ও দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
‘জনগণই পুলিশের ভাবমূর্তি বিচার করবে’
পুলিশের বর্তমান ইমেজ ও জনসেবার মান নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। বাহিনীর সংস্কার ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি কোথায়, আপনারাই বিচার করবেন। জনগণই বিচার করবে। আমরা এই পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব পুলিশ বাহিনীতে রূপান্তর ঘটাতে পেরেছি বলে আমার মনে হয়। তাদের নৈতিকভাবে আমাদের উৎসাহিত করা দরকার এবং তারা যাতে সামনে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী, আইনের শাসন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে সে জন্য তাদের উৎসাহিত করা দরকার।"
পুরস্কার ও তিরস্কার নীতিতে বিশ্বাসী সরকার
অপরাধ দমন এবং ভালো কাজের মূল্যায়নে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, "রিওয়ার্ড অ্যান্ড পানিশমেন্ট নীতিতে বিশ্বাস করি। ভালো কাজের জন্য স্বীকৃতি, মন্দ কাজের জন্য তিরস্কার। শিষ্টের পালন এবং দুষ্টের দমন– এটা আমাদের নীতি, তা আমরা বাস্তবে সেটা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এর মধ্যে সামনের দিনে দেখা যাবে আমরা কতটুক সফল হই।"
টিআইবির প্রতিবেদন ও অপরাধের পরিসংখ্যান
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথ্যগত সত্যতা যাচাইয়ের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, "টিআইবি সরকারি সংস্থা না। আপনারা পরিসংখ্যানটা নেবেন। পুলিশ বিভাগ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকৃত চিত্রটা নেবেন। তারপর আপনারাই বিচার করবেন, জনগণ জাজ করবে।"
একই সাথে তিনি দাবি করেন, বিগত ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশের সামগ্রিক অপরাধের গ্রাফ অনেকটাই নিম্নমুখী।
যে কারণে পুরস্কৃত হলেন ১৫ পুলিশ সদস্য
পেশাগত দায়িত্ব পালনে অনন্য সাধারণ অবদান রাখায় এদিন পুলিশের ১৫ জন সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। মূলত তিনটি বড় ঘটনার সফল ও দ্রুত তদন্ত এবং বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে:
রামিসা হত্যাকাণ্ড: অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে ডিএনএ পরীক্ষা ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে নিখুঁত চার্জশিট দাখিল করা।
দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্ধার অভিযান: চরম পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে অন্তত ৫০ জন বাসযাত্রীর নিশ্চিত প্রাণ রক্ষা করা।
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া হত্যাকাণ্ড: কোনো ক্লু না থাকা একটি কিশোরী হত্যার রহস্য দ্রুততম সময়ে উদঘাটন এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির ফলে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মনোবল ও কাজের প্রতি নিষ্ঠা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।