
ব্যবসায়িক খাতের তীব্র দাবির মুখে দেশের অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে আজ থেকে সারাদেশে রাত ৯টা পর্যন্ত সমস্ত দোকানপাট, বিপণিবিতান ও শপিংমল খোলা রাখার নতুন সবুজ সংকেত দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর দুইটার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নতুন এই নির্দেশনার ফলে এখন থেকে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে শুরু করে রাত ৯টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে সব ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শপিংমল তাদের বেচাকেনা চালিয়ে যেতে পারবে।
মন্ত্রীর ফোন ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা
দোকান মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সরাসরি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেন। ওই ফোনালাপেই মন্ত্রী আজ থেকেই বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতিকে অবহিত করেন।
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নেওয়ায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সমিতির শীর্ষ নেতৃত্ব। এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
পেছনের প্রেক্ষাপট: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকট
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর আকস্মিক সামরিক হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও পাল্টা জোরালো আঘাত হানলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘাতের একপর্যায়ে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য আকাশচুম্বী হওয়ার পাশাপাশি তীব্র সরবরাহ সংকট দেখা দেয়, যার সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব এসে পড়ে বাংলাদেশের ওপরেও।
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় গত ২ এপ্রিল রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সীমা এক ঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছিল।
একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের সমস্ত দোকানপাট ও শপিংমল (বিপণিবিতান) প্রতিদিন সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে বন্ধ করার কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা পরদিন থেকেই দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে সেই সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সন্ধ্যা সাতটা করা হয়।
এর মাঝেই পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের কেনাকাটার সুবিধার্থে দোকানপাট ও শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সাময়িক অনুমতি দিয়েছিল বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে কোরবানি ঈদ শেষ হওয়ার পর আবারও পূর্বের নিয়ম মেনে সন্ধ্যা ৭টায় দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শপিংমল যথারীতি বন্ধ রাখার নির্দেশ বহাল করা হয়েছিল। আজ নতুন সিদ্ধান্ত আসায় দীর্ঘদিনের সেই বাণিজ্যিক অচলাবস্থার অবসান ঘটল।