
রাজধানীর পল্লবীতে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হওয়া আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলাসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের সব চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারপ্রক্রিয়া হাইকোর্টে কোনো বিরতি ছাড়াই টানা চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। একই সাথে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে জানিয়েছেন, আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী হিসেবে তিনি নিজেই সশরীরে আদালতে অংশ নেবেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলা শুনানিতে কোনো মুলতবি আবেদন করবো না।"
এর আগে, গত বুধবার (১০ জুন) দেশের সব নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির কাজ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। আগামী রোববার থেকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত এই বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চে এসব গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারিক কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ টিম গঠন
শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় হাইকোর্টে শক্তিশালী আইনি লড়াই নিশ্চিত করতে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে রাষ্ট্রপক্ষের একটি বিশেষ প্যানেল বা টিম গঠন করা হয়েছে। এই বিশেষ টিমের অন্য সদস্যরা হলেন:
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার ওসমান চৌধুরী
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিউল হক ফয়সাল
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল দেওয়ান হুমায়ুন কবির রিপন
রামিসা হত্যা মামলার প্রেক্ষাপট
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন রাজধানীর পল্লবী এলাকায় ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে নিম্ন আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি—সোহেল রানা এবং স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আনুষ্ঠানিক নথি (ডেথ রেফারেন্স) হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দুই আসামির ফাঁসির রায়ে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করার পর নিয়ম অনুযায়ী এই ডেথ রেফারেন্সের নথিটি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়।
বাংলাদেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুযায়ী, বিচারিক (নিম্ন) আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ডের সাজা হলে তা কার্যকর করার পূর্বে উচ্চ আদালত তথা হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই আইনি প্রক্রিয়াটিই বিচার বিভাগে ‘ডেথ রেফারেন্স’ মামলা নামে পরিচিত। বিশেষ বেঞ্চ গঠনের ফলে রামিসার পরিবার দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।