
ঢাকার জাতীয় সংসদে দেশের ভূমি অফিসগুলোতে দালাল নিয়ন্ত্রণ ও সেবা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের তথ্য জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদে তিনি জানান, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ভূমি অফিসে দালালদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
সংরক্ষিত আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানার প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সরাসরি অনিয়ন্ত্রিত যোগাযোগ কমিয়ে পুরো সেবা প্রক্রিয়াকে একটি উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থার মধ্যে আনা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, ই-পর্চা ও ম্যাপ সিস্টেম, ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র, ভূমি অ্যাপ এবং অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদন দাখিল ও সেবা ট্র্যাকিং করা হচ্ছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন আদালতে ভূমি-সংক্রান্ত ২ লাখ ৮১ হাজার ৬৫৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ও সালিসের মাধ্যমে প্রায় ৩৯.৪৩ শতাংশ মামলা সমাধান করা হয়েছে।
ফসলি জমি দখল প্রতিরোধ বিষয়ে মো. আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা আইনের তফসিল-২ অনুযায়ী ফসলি জমির মাটি কাটা বা বাণিজ্যিকভাবে মাটি উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে দুই থেকে তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১ থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
তিনি জানান, মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে, যা ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে দেশের ভূমিকে ব্যবহার ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ১৮টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ভূমি জোনিং কার্যক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে কৃষি, শিল্প, আবাসন ও সবুজ এলাকা আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যাবে, কৃষিজমি সুরক্ষা সহজ হবে এবং জাতীয় ও স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।