
অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতির কারণেই দেশে হামের টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়া হায়দার। তিনি বলেছেন, বিষয়টি স্পষ্ট এবং সত্য। এটি জানার জন্য আলাদা কোনো তদন্তের প্রয়োজন নেই।
রোববার (২১ জুন) সচিবালয়ে ইউরোপ সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এস এম জিয়া হায়দার বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতির জন্যই হামের টিকা দেওয়া হয়নি। এটা সত্যি ও পরিষ্কার। বিষয়টি জানার জন্য আলাদা করে তদন্ত করার প্রয়োজন নেই। কীভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে, তা সরকার বিবেচনা করবে।”
স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে সারা দেশে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত দুজন করে মিডওয়াইফ নিয়োগের পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়েও প্রয়োজনীয় সংখ্যক মিডওয়াইফ রাখা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে তিন হাজারেরও কম মিডওয়াইফ কর্মরত রয়েছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী এক বছরের মধ্যে মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মিডওয়াইফ নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, সারাদেশে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবেন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিকের আদলে আরও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কেন্দ্রে রক্তচাপ পরিমাপ, স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং অন্যান্য মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে।
এস এম জিয়া হায়দার বলেন, “সব মিলিয়ে আমরা দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাই, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন।”