.webp)
দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির অন্যতম দুই খাত বস্ত্র ও পাটের চাকা নতুন করে সচল করতে বড় ধরনের সংস্কার এবং বেসরকারি অংশীদারিত্বের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। বর্তমানে দেশের বুকজুড়ে ১ হাজার ৮০৫টি টেক্সটাইল মিল এবং ২৬৬টি পাটকলের বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে তিনি এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। মন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) অধীনে বর্তমানে ২৫টি বস্ত্রকল রয়েছে। অপরদিকে, বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) আওতায় সুতা কাটা, বয়ন এবং ডাইং-ফিনিশিং মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৭৮০টি কলকারখানা পরিচালিত হচ্ছে।
পাট খাতের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও জানান, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন সরকারি ২৫টি মিলসহ দেশে মোট লাইসেন্সপ্রাপ্ত পাটকলের সংখ্যা ২৬৬টি।
পাটমন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে ১৯৩টি পাটকল চালু এবং ৭৩টি পাটকল বন্ধ রয়েছে।’
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বিটিএমসির ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত বস্ত্রকলের মধ্যে ১৫টি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সচল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে চারটি বস্ত্রকলের জন্য নির্বাচিত বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তি সই ও হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এগুলোর মধ্যে দুটি বস্ত্রকলে উৎপাদন শুরু হয়েছে।’
‘এছাড়া আরও ১১টি বন্ধ বস্ত্রকল পিপিপি পদ্ধতিতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে চালুর কার্যক্রম চলমান রয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
অতীতের সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, ‘২০২০ সালে সরকারি সিদ্ধান্তে বিজেএমসির অধীন ২৫টি পাটকলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।’
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এসব বন্ধ পাটকল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি আইনসভাকে অবহিত করেন। মন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত ১৪টি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার জন্য ইজারা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি পাটকলে ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়ে গেছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘বাকি মিলগুলো পর্যায়ক্রমে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এসব মিলেও উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।’
শিল্প খাতের বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে বিজেএমসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এমএম জুট মিলস লিমিটেডে একটি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার অভ্যন্তরে থাকা লতিফ বাওয়ানি জুট মিলস লিমিটেড ও করিম জুট মিলস লিমিটেডকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ শিল্পাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া ইজারার তালিকার বাইরে থাকা বাকি তিনটি পাটকলের মধ্যে আমিন জুট মিল সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে পড়েছে এবং অন্য দুটি পাটকল মূলত মামলাজনিত জটিলতার কারণে আপাতত ইজারার বাইরে রাখা হয়েছে।