.webp)
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোলে স্বস্তির জয় পায় সেলেসাওরা।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া ব্রাজিল বিরতির পর দলে পরিবর্তন আনে। লুকাস পাকেতার জায়গায় মাঠে নামেন এন্দ্রিক। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ধার বাড়ায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কয়েকটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করার পর ৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর গোলে সমতায় ফেরে দলটি।
এর আগে ২৯ মিনিটে জাপানকে এগিয়ে দেন সানো। হাইড্রেশন ব্রেকের পর মাঝমাঠে দানিলোর ভুল পাস থেকে বল পেয়ে কাসেমিরোকে গতিতে হারিয়ে বক্সের বাইরে থেকেই দুর্দান্ত ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠান তিনি। নিচের বাম কোণ দিয়ে ঢুকে যাওয়া সেই শটে এগিয়ে যায় এশিয়ার প্রতিনিধিরা।
যদিও ম্যাচের শুরুটা ছিল পুরোপুরি ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণে। হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্ত প্রায় ৭৫ শতাংশ বল দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। তবে সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি।
তৃতীয় মিনিটেই গিমারায়েসের শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। পাঁচ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দিকে বাড়ানো বল জাপানের গোলরক্ষক সুজুকি বেরিয়ে এসে পাঞ্চ করে বিপদমুক্ত করেন।
শুরুর দিকে নিজেদের অর্ধ থেকেই বের হতে হিমশিম খাচ্ছিল জাপান। অন্যদিকে ধৈর্য ধরে পাসিং ফুটবলে সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল ব্রাজিল। তবে জাপানের সুসংগঠিত রক্ষণ সহজে ভাঙতে পারেনি তারা।
১০ মিনিটে দানিলোর ক্রস থেকে ব্রাজিল আরেকটি সুযোগ পেলেও সতীর্থের গায়েই লেগে যায় শট। ১৪ মিনিটে কুনহার দূরপাল্লার শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন সুজুকি। সেই কর্নার থেকেও গোল আদায় করতে পারেনি ব্রাজিল।
১৬ মিনিটে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পেলেও কামাদার শট ব্রাজিলের রক্ষণেই আটকে যায়। এরপর গোল শোধের চেষ্টায় পাকেতার ফ্রি-কিক থেকে মারকুইনহোসের হেড অল্পের জন্য বাইরে যায়। ভিনিসিয়ুস ও কুনহার দূরপাল্লার চেষ্টাও সহজেই সামাল দেন সুজুকি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে পাল্টা আক্রমণে ভয় ধরায় জাপান। রিতসু দোয়ানের আক্রমণ থেকে জুনিয়া ইতোর বিপজ্জনক ক্রস কোনোমতে ক্লিয়ার করে ব্রাজিল। এরপর হিরোকি ইতোর বাঁকানো ক্রসও বিপদমুক্ত করে তারা।
বিরতির পর আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় ব্রাজিল। ৫০ মিনিটে এন্দ্রিকের পাস ভিনিসিয়ুসের কাছে পৌঁছানোর আগেই বল গ্লাভসবন্দি করেন সুজুকি। দুই মিনিট পর দানিলোর ক্রস থেকে গিমারায়েসের শক্তিশালী হেড দারুণ ডাইভ দিয়ে রুখে দেন জাপানি গোলরক্ষক।
৫৫ মিনিটে কাসেমিরোর হেড গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন তোমিয়াসু। গোলমুখে তৈরি হওয়া জটলাতেও দ্বিতীয়বার বল ব্লক করে দলকে রক্ষা করেন তিনি। তবে এক মিনিট পর আর রক্ষা হয়নি। এবার কাছ থেকে কাসেমিরোই জালের ঠিকানা খুঁজে নিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান।
গোলের তিন মিনিট পর ভিনিসিয়ুস দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নিলেও বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল জাপানের রক্ষণভাগ দূরে সরিয়ে দেয়।
৭৫ মিনিটে এন্দ্রিকের দারুণ ড্রিবলিংয়ের পর ভিনিসিয়ুসকে দেওয়া পাস থেকেও গোলের সুযোগ নষ্ট হয়। পরে গ্যাব্রিয়েলের উঁচু ক্রসে রায়ানের হেড সুজুকির গায়ে লেগে কর্নার হলেও সেখান থেকেও সুবিধা করতে পারেনি ব্রাজিল।
ম্যাচের শেষ দিকে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে সেলেসাওরা। ৮৯ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নার হয়। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে সেই চাপেরই ফল পায় ব্রাজিল। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি জালের দেখা পেয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখে নাটকীয় জয় নিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে ব্রাজিল।