
শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, আইনজীবী, শিল্পী ও সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর বিরুদ্ধে হয়রানি, গ্রেফতার, চাকরিচ্যুতি এবং মব সন্ত্রাসের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ (পিএইচআরসি)।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক ডা. মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, কো-আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. অহিদুজ্জামান এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ এম. এম. মিজানুর রহমান এ দাবি জানান। বিবৃতিতে যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ জামালের স্বাক্ষর রয়েছে।
বিবৃতিতে নেতারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে বিভিন্ন পেশাজীবীর বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস, সম্মানহানি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, গ্রেফতার, মামলা এবং চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে পেশাজীবীদের মধ্যে ভীতি ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলের শিক্ষককে চাকরিচ্যুত, সাময়িক বরখাস্ত বা একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ছাড়া গ্রেফতার, মামলা, নির্যাতন এবং চাকরিচ্যুতির ঘটনাও ঘটেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া প্রকৌশলী, কৃষিবিদ ও চিকিৎসকদের হয়রানি, চাকরিচ্যুতি ও গ্রেফতার, আইনজীবীদের পেশা পরিচালনায় বাধা এবং শিল্পী-সাহিত্যিকদের হয়রানির অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদে নিয়োগ বাতিল এবং ২০২৪ সালের ২০ জুন থেকে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা ফেরত চাওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়। সংগঠনটির মতে, একজন খ্যাতিমান চিকিৎসকের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা উচিত।
এছাড়া হামের টিকা আমদানিতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলা হয়, এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে এবং দেশে শিশুদের মধ্যে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে।
তুরাগ এলাকায় রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিখোঁজ এবং পরে নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করে পিএইচআরসি। এ বিষয়ে পুলিশ ও গণমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, মব কালচার বন্ধ, বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।