
জাতীয় সংসদে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ এক টাকায় নামিয়ে আনার ছাঁটাই প্রস্তাবের জবাবে রসিকতা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ১৫ নম্বর মঞ্জুরি দাবির ওপর আলোচনা চলাকালে তিনি বলেন, “এক টাকা দিয়ে এক বছর পার করার জন্য প্রস্তাবকারী মাননীয় সদস্য যদি সঙ্গে একটু ফু দিয়ে দিতেন, সুবিধা হতো।”
মন্ত্রীর এই মন্তব্যে অধিবেশন কক্ষে হাসির রোল পড়ে যায়।
এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব উত্থাপন করেন তিনি। কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জানানো হয়, এ মঞ্জুরি দাবির ওপর ২৮ জন সংসদ সদস্য ছাঁটাই প্রস্তাব জমা দিয়েছেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে মো. রুহুল আমিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য বরাদ্দ এক টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেন। তিনি বাজার নিয়ন্ত্রণে লাইসেন্স, কাস্টমস, সরকারি ক্রয়, বাজার সিন্ডিকেট এবং রপ্তানি নীতির বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার বিষয় তুলে ধরেন।
তার অভিযোগ, পরিবহন টার্মিনাল, বন্দর, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজির প্রভাব বাজার ব্যবস্থার ওপর পড়ছে। এসব নিয়ন্ত্রণ করা গেলে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা সহজ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে মো. রায়হান সিরাজী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরবরাহ ব্যবস্থা, মূল্যস্ফীতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় আধুনিক ও কার্যকর বাণিজ্যনীতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাজারে কৃত্রিম সংকট, মজুদদারি ও মূল্য কারসাজি রোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের বড় অংশই পরিচালন ব্যয়। প্রস্তাবিত বাজেটের ৮৭ শতাংশ পরিচালন এবং ১৩ শতাংশ উন্নয়ন খাতে ব্যয় হবে।
তিনি জানান, এ বরাদ্দ বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকার মঞ্জুরি দাবি সংসদে অনুমোদন পায়।