
টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে অন্তত নয় জেলার নদীঘেঁষা নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র প্রকাশিত সর্বশেষ পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
এদিকে বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুই দিনে রংপুর ও সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী তিন দিনে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি আরও বাড়তে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। আগামী পাঁচ দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। মঙ্গলবারের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কয়েকটি স্থানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্কসীমায় পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হতে পারে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও কংস নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও সোমেশ্বরী ও ভুগাই নদীর পানি বাড়ছে। আগামী বুধবারের মধ্যে নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীঘেঁষা নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা ও যমুনেশ্বরী নদীর পানিও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।