
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রার্থিতা, নির্বাচনি আচরণবিধি, প্রচারণা, অযোগ্যতার শর্ত এবং শাস্তির বিধানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশোধনী চূড়ান্ত করতে কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিদ্যমান আইনে ব্যাপক পরিবর্তনের সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার আভাস মিলেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই, ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ–সংক্রান্ত আইনে সংশোধনের সুপারিশ সরকারের কাছে পাঠানোর প্রস্তাব চূড়ান্ত হতে পারে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণবিধির সংশোধনী অনুমোদনের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে গুরুতর আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্টকে লিখিত আদেশের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচনি প্রচারের সময়সীমা কমানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাবও রয়েছে।
খসড়া সংশোধনী অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি, ঋণখেলাপি এবং ঋণখেলাপির জামিনদারদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য বিদ্যমান এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা বাতিলের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
এর আগে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, আগামী অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ধাপ শুরু হতে পারে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আগস্টের শেষ দিকে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনার জন্য ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল প্রস্তুতের কাজও এগিয়ে চলছে।