
জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখেই প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সাভারের আশুলিয়ায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, “গত কয়েক মাসে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন কৌশলগত কাঠামো গড়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন, বেইজিং কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো—সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে।”
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত অন্যান্য পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শেখ হাসিনা ও ভারতে অবস্থানরত অন্যান্য পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দেশে বিচারিক কার্যক্রম চলমান। এটি দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও স্বাভাবিক দাবি।”
ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, “ভারতের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে সফরের বিষয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই। শীর্ষ পর্যায়ের যেকোনো বৈঠকের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ভিত্তি তৈরি করতে হয়। সঠিক সময় এবং আলোচনার অগ্রগতির ভিত্তিতে সফর অনুষ্ঠিত হবে।”
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতি ও জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কারও সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে এবং ভারতও বাংলাদেশের মানুষের এই অনুভূতির বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছে।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “বিশাল জনসমর্থন নিয়ে গঠিত এই সরকার সফট পাওয়ার, আঞ্চলিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্বমঞ্চে একটি দায়িত্বশীল ও প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করাই আমাদের লক্ষ্য।”