
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর প্রকল্পটি বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আলোচনা হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেনগুলো মূলত ডিজেলচালিত ইঞ্জিনে পরিচালিত হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হলে জ্বালানি খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ কমবে। একই সঙ্গে ট্রেনের গতি বাড়ার পাশাপাশি যাতায়াতের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ঢাকা এবং এর দুই পাশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে যানজট ও সড়কে গাড়ির চাপ কমাতে এ রুটটি গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন সংযোগ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। পুরোনো ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের কারণে বর্তমানে ট্রেনগুলো কাঙ্ক্ষিত গতিতে চলতে পারে না। এ কারণে যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ট্রিপ পরিচালনাও সম্ভব হচ্ছে না।
এই সীমাবদ্ধতা দূর করতেই প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে গাজীপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে প্রতিদিন যাতায়াতকারী হাজারো মানুষ দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ গণপরিবহন সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় রেল পরিচালন ব্যবস্থা ডিজেল থেকে বিদ্যুতে রূপান্তর করা হবে। রেললাইনের ওপর ‘ওভারহেড ওয়্যার’ বা বিদ্যুতের তার স্থাপন করা হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নির্দিষ্ট দূরত্বে নির্মাণ করা হবে বিশেষায়িত ‘ট্রাকশন সাবস্টেশন’।
নিরাপদ ও মসৃণ চলাচল নিশ্চিত করতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ‘ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট’ (ইএমইউ) ট্রেন, বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন এবং কম্পিউটারভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ডিজেল ইঞ্জিনের তুলনায় বৈদ্যুতিক ট্রেন দ্রুত গতি অর্জন ও থামতে পারে। ফলে স্টেশনে যাত্রাবিরতির পর দ্রুত সর্বোচ্চ গতিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে যাতায়াতের সময় অর্ধেকের বেশি কমে আসতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে ৩ হাজার ৯৩ কিলোমিটার নেটওয়ার্কে ডিজেলচালিত ট্রেন পরিচালনা করছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মতে, বৈদ্যুতিক রেলব্যবস্থায় প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কম।
কর্মকর্তারা জানান, বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হলে পরিচালন ব্যয় প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈদ্যুতিক রেলব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবে ভারতের রেলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভারতের ৬৫ হাজার ৩০০ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেল নেটওয়ার্কের প্রায় ৯০ শতাংশ, অর্থাৎ ৫৮ হাজার ৮১২ কিলোমিটার বিদ্যুতায়ন করা হয়েছিল।