
গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি শুধু নবায়ন না করে নতুন একটি চুক্তি করার পক্ষে বাংলাদেশ। নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি দেশের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে নদী নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হচ্ছে নদী। তবে শিল্পায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব নদীগুলোর ওপর ক্রমেই বাড়ছে। নদীদূষণের প্রকৃত কারণগুলো চিহ্নিত করে তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে এ্যানি বলেন, বাংলাদেশ পুরোনো চুক্তি নবায়নের পরিবর্তে নতুন চুক্তি চায়। সেখানে গ্যারান্টি ক্লজ রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ যাতে যথাযথভাবে সুরক্ষিত থাকে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। চুক্তিটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে অনুষ্ঠানে ঢাকার নদীগুলোর দূষণ পরিস্থিতিও উঠে আসে। বিশেষ করে বুড়িগঙ্গার দূষণকে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন পানিসম্পদমন্ত্রী। রাজধানীর নদীগুলো রক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পানি ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ঢাকা মহানগরে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৯০০ মিলিয়ন লিটার বর্জ্যপানি তৈরি হয়। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিলিয়ন লিটার অপরিশোধিত বর্জ্যপানি নদীতে গিয়ে পড়ে। এর ফলে প্রতি বছর দেশের অর্থনীতিতে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
নদীদূষণ কমানো, নদী সংরক্ষণ এবং রাজধানীর জলাশয় ও নদীগুলোর ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব দেওয়া হয়।