
বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি ব্যবস্থাপনার ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্পসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে ফেনীর পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেনীতে এটিই তার প্রথম সফর। এক দিনের সফরে তিনি জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর সাড়ে ১২টায় পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।
১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি গত ১৬ জুন একনেকের সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ, নদী পুনঃখনন এবং সেচ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ করা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
এরপর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দুপুর দেড়টায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
ফেনীর পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি দপ্তরের ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তিন উপজেলায় স্থাপিত সৌর প্যানেলগুলোর মোট সক্ষমতা ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুপুর ২টার দিকে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি।
বিকেল ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
কৃষি ও মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, কৃষক কার্ডের পাইলট কার্যক্রমের আওতায় ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন। ফেনী জেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষকও কৃষক কার্ড পাবেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে বিকেল ৫টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে ফেনী ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। রাত ৯টার দিকে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ফেনীতে অবস্থান করছেন।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ফেনীতে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। মুহুরী ও কহুয়া নদী ঘিরে নেওয়া এই প্রকল্পের আওতায় পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও সোনাগাজী—এই চার উপজেলায় বাঁধসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বর্ষার কারণে এপ্রিল থেকে আগস্ট-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখননের কাজ বন্ধ ছিল। বর্ষা শেষ হওয়ায় আবারও এ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আজ ফেনী থেকে আবার খাল পুনঃখননের কর্মসূচি শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন।
তিনি বলেন, চলতি বছর এরই মধ্যে ১১০টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। গত ছয় মাসে ৩৭৭ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।
‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় নদী ও জলাধার পুনঃখনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সেচ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ করা হবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শেষ করার লক্ষ্য ২০৩০ সাল।