
নাটোরের গুরুদাসপুরে ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক বিএনপি নেতা ও শিক্ষক ফিরোজুল ইসলাম (৪৮) উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহী কারাগার থেকে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আদালতের আদেশে মুক্তি পান তিনি।
মুক্তির সময় তাকে স্বাগত জানাতে গাড়িবহর ও ফুলের মালা নিয়ে কারাগারের সামনে উপস্থিত হন গুরুদাসপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মামুন রানাসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী ও সমর্থক।
সভায় বাদীকে উদ্দেশ করে বক্তব্য

পরদিন বুধবার উপজেলার নাজিরপুরে আয়োজিত একটি সভায় সমর্থকদের সামনে বক্তব্য দেন ফিরোজুল ইসলাম। সেখানে মামলার বাদীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, চারজনের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ রয়েছেন, যারা প্রতিপক্ষের কর্মকাণ্ডের সাক্ষী। এ বিষয়ে বিচার হবে এবং সেই বিচার নাজিরপুরের মাটিতেই শুরু হয়েছে বলেও বক্তব্য দেন তিনি।
ফিরোজুলের ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নাজিরপুরের মাটিতেই বিচার করার যে কথা বলা হয়েছে, তাতেও তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বিষয়টি তিনি থানা পুলিশকে জানিয়েছেন।
ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন, অপহরণে ১০ বছরের সাজা
ফিরোজুল ইসলাম গুরুদাসপুরের নাজিরপুর মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি নাজিরপুরের দৌলতপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। একসময় গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন জানান, ফিরোজুল একসময় বিএনপির সক্রিয় নেতা ছিলেন। উপজেলা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। তবে বিভিন্ন বিতর্কের কারণে পরে পদ হারান।
রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি মুন্সি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ফিরোজুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় অপহরণের ঘটনায় পৃথক ধারায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য, ওই রায়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার সন্তুষ্ট ছিল। তবে আপিলের পর আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ায় বাদীপক্ষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, ধর্ষণ মামলার বাদীকে অন্যায়ভাবে হুমকি দেওয়া হয়ে থাকলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১ অক্টোবর এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে বিদ্যালয়ে যায় ওই ছাত্রী। অভিযোগ করা হয়, বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে থেকে তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান প্রধান শিক্ষক ফিরোজুল ইসলাম। পরে তাকে রাজশাহীর একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর ছাত্রীর বাবা গুরুদাসপুর থানায় ফিরোজুল ইসলাম ও তার দুই ভাইকে আসামি করে মামলা করেন। পরে ওই বছরের ১১ অক্টোবর রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের তকীতলার একটি আবাসিক হোটেল থেকে ফিরোজুলকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৫।