
দীর্ঘায়ুর নতুন বাস্তবতায় প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে এবং বিশ্বজুড়ে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
এবারের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য—‘দ্য এইজ অব লংজিবিটি: রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস’ (দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা)। জাতিসংঘও ২০২৬ সালের দিবসের জন্য একই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে।
প্রতিপাদ্যকে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষের স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহের অনিবার্য পরিণতি বার্ধক্য। তাই প্রতিটি নাগরিকের বার্ধক্য যেন নিরাপদ, সুরক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদের আলোকে প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমান সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা খাতে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। একই সঙ্গে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। এসব উদ্যোগ প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রবীণদের অবদানের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “তারা শুধু অতীতের গল্প নন; তারা বর্তমানের শিকড় এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। তাদের শ্রম, ঘাম, মেধা, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে।”
তবে প্রবীণদের একটি বড় অংশ স্বাস্থ্যহানি, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নিঃসঙ্গতার মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে প্রবীণদের প্রতি সহমর্মী ও যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি থাকা অপরিহার্য।
রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও দাতব্য সংগঠন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং প্রতিটি পরিবার প্রবীণদের সুরক্ষায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। প্রবীণদের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাঁদের জন্য শান্তিময় ও নিরাপদ বার্ধক্য নিশ্চিত করা সবার সামাজিক অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।