
দেশের ২০ জেলায় সমন্বিত মেডিক্যাল অক্সিজেন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পাশাপাশি ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি জাতীয় অক্সিজেন রোডম্যাপ তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে (আইইউবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিট’-এর সমাপনী ও উচ্চপর্যায়ের নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এসব তথ্য জানান।
সামিটটি যৌথভাবে আয়োজন করে আইইউবির ‘সেন্টার ফর হেলথ, ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যান্ড পলিসি সায়েন্সেস’ (সিএইচআইপিএস) ও ‘বাংলাদেশ অক্সিজেন নেটওয়ার্ক’।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০২৩ সালের প্রস্তাবনার পর মেডিক্যাল অক্সিজেনকে আর সাময়িক প্রয়োজন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখন স্বাস্থ্য নিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ।
দেশে অতীতে অক্সিজেন ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা ও সরঞ্জাম ব্যবহারে অব্যবস্থাপনা ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় ২০টি জেলায় সমন্বিত অক্সিজেন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।
বাংলাদেশের জন্য ২০২৬-২০৩০ মেয়াদে একটি কার্যকর ‘ন্যাশনাল অক্সিজেন রোডম্যাপ’ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশীয় উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।
চিকিৎসা শিক্ষার পাঠ্যক্রমে অক্সিজেন থেরাপির যথাযথ ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এবং নার্সিং কাউন্সিলকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
জরুরি চিকিৎসাসেবা ও অ্যাম্বুল্যান্সের মান নিয়ন্ত্রণে নতুন আইনগত কাঠামো তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে জরুরি অ্যাম্বুল্যান্স সেবার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে বাতি লাগিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা রয়েছে। এটি বন্ধ করে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাম্বুল্যান্স সেবা নিশ্চিত করতে আইন ও মানদণ্ড নির্ধারণ করা হচ্ছে।
নতুন কাঠামোয় অ্যাম্বুল্যান্সে কার্যকর অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে বলেও জানান তিনি।
নীতি সংলাপে বক্তারা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে দেশে সাশ্রয়ী, সমতাভিত্তিক ও টেকসই মেডিক্যাল অক্সিজেন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।