
পবিত্র কোরআনের ৬৭তম সূরা আল-মুলক। মক্কায় অবতীর্ণ এই সূরায় মোট ৩০টি আয়াত রয়েছে। সূরাটিতে আল্লাহর ক্ষমতা, সৃষ্টিজগতের নিদর্শন, মানুষের প্রতি সতর্কবার্তা এবং আখিরাতের জবাবদিহির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
‘মুলক’ শব্দের অর্থ রাজত্ব বা সার্বভৌম কর্তৃত্ব। সূরার শুরুতেই বলা হয়েছে, সমস্ত রাজত্ব আল্লাহর হাতে এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করতে বলা হয়েছে এবং আল্লাহর সৃষ্টির নিখুঁত ব্যবস্থার প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোরআনে ৩০ আয়াতের একটি সূরা রয়েছে, যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করতে থাকবে, যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। সেটি হলো ‘তাবারাকাল্লাজি বিয়াদিহিল মুলক’ অর্থাৎ সূরা আল-মুলক। হাদিসটি সুনান আবু দাউদ ও জামে তিরমিজিসহ হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
আরেক বর্ণনায় সূরা আল-মুলককে ‘আল-মানিয়াহ’ বা রক্ষাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব বর্ণনার সনদ ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তাই ফজিলতের বিষয়গুলো বর্ণনার ক্ষেত্রে হাদিসের মান বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক মুসলিম রাতে ঘুমানোর আগে সূরা আল-মুলক তিলাওয়াত করে থাকেন। এ বিষয়ে কিছু বর্ণনা রয়েছে, যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুমানোর আগে সূরা আল-মুলক পাঠ করতেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময় বা নিয়মকে বাধ্যতামূলক মনে না করে কোরআন তিলাওয়াতের সাধারণ আমল হিসেবে এটি করা উত্তম।
সূরা আল-মুলকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—মানুষের জীবন উদ্দেশ্যহীন নয়। আল্লাহ জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য। সূরাটিতে আকাশের সৃষ্টি, পৃথিবীর নিয়ামত এবং আল্লাহর ক্ষমতার বিভিন্ন নিদর্শনের কথা উল্লেখ করে মানুষকে চিন্তা ও আত্মসমালোচনার দিকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া অবিশ্বাসীদের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে এবং আল্লাহকে ভয় করে গোপনে তাঁর আনুগত্যকারীদের জন্য ক্ষমা ও পুরস্কারের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
সূরাটির শেষ আয়াতে মানুষের একটি মৌলিক বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে—পানি যদি মাটির গভীরে হারিয়ে যায়, তাহলে কে তা প্রবাহিত করে নিয়ে আসবে? এর মাধ্যমে মানুষের প্রতি আল্লাহর নিয়ামতের গুরুত্ব এবং তাঁর ওপর নির্ভরতার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
শুধু ফজিলত পাওয়ার আশায় সূরা আল-মুলক পড়ার পাশাপাশি এর অর্থ ও শিক্ষা বোঝার চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ। কোরআন তিলাওয়াতের উদ্দেশ্য কেবল পাঠ করা নয়; বরং আয়াতের অর্থ অনুধাবন করে জীবনে তার শিক্ষা বাস্তবায়ন করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।
তাই নিয়মিত সূরা আল-মুলক তিলাওয়াতের পাশাপাশি এর অনুবাদ ও তাফসির পড়া এবং সূরাটিতে দেওয়া সতর্কবার্তা ও নির্দেশনা নিজের জীবনে প্রয়োগের চেষ্টা করা উচিত।